Showing posts with label discrimination. Show all posts
Showing posts with label discrimination. Show all posts

Thursday, 9 April 2020

করোনা দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তুহারাদের কি হবে?

৯ই এপ্রিল ২০২০
 
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লাস ভেগাস শহরের কর্মকর্তারা ক্যাশম্যান সেন্টার নামের কনভেনশন সেন্টারের পার্কিং লটে খোলা আকাশের নিচে বাস্তুহারা মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করে, যখন শহরের হোটেলগুলি সম্পূর্ণ খালি। এ নিয়ে সোশাল মিডিয়াতে হচ্ছে তুমুল সমালোচনা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যাসিনো শহর’ বলে পরিচিত লাস ভেগাসে বাস্তুহারা মানুষদের একজনের মাঝে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পরার পর থেকে ৫’শ মানুষের থাকার জায়গা হচ্ছে না। শহরের ক্যাথলিক চ্যারিটি এই লোকগুলিকে একটা আশ্রয়স্থলে থাকার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে সেই আশ্রয়স্থলে থাকা এক বাস্তুহারার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পরার পর নতুন স্থান খোঁজা শুরু হয়। লাস ভেগাস শহর, ক্লার্ক কাউন্টি এবং নেভাডা রাজ্যের কর্মকর্তারা শহরের ক্যাশম্যান সেন্টার নামের কনভেনশন সেন্টার ও বেইসবল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের পার্কিং লটে খোলা আকাশের নিচে এই মানুষগুলির থাকার ব্যবস্থা করে। এই ব্যবস্থায় পার্কিং লটের পাকা স্থানে ছয় ফিট দূরত্ব রেখে সাদা রঙের দাগ দিয়ে বক্স এঁকে দেয়া হয়। সাদা দাগ দেয়া একেকটা বক্সের মাঝে একেকজন বাস্তুহারার শোবার ব্যবস্থা করা হয়। এই থাকার ব্যবস্থার ছবি প্রকাশ পাবার পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন টুইটার ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, এটা হলো একটা ব্যর্থ সমাজের চিত্র, যা কিনা এর নাগরিকদের একেবারে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করতে অক্ষম। আরেকটা মন্তব্য আসে যে, নেভাডা হলো বিশ্বের সবচাইতে ধনী একটা দেশের একটা রাজ্য, যেখানে পার্কিং লটের কংক্রিটের উপর বক্স এঁকে বাস্তুহারাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকজন মন্তব্য করেন যে, লাস ভেগাস শহর তাদের বাস্তুহারাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে পার্কিং লটে, যখন শহরের হোটেলগুলি একেবারেই খালি! এই ছবি দেখেই এই দেশের সব ভুলগুলি বোঝা যায় এবং করোনাভাইরাস দুর্যোগের ব্যাপারে দেশটার সিদ্ধান্তের সমস্যাগুলি ধারণা করা যায়। মন্তব্যগুলির পিছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেনসাস ব্যুরো’র হিসেবে লাস ভেগাস শহরের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। মাথাপিছু আয় ২৯ হাজার ডলারের বেশি। তবে পুরো জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ বা এক লাখের মতো মানুষ দরিদ্র্য।

নিউ ইয়র্ক শহরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, শহরের পাঁচটা হোটেলে রুম লিজ নিয়ে ৭’শ বাস্তুহারা মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহরের ‘ডিপার্টমেন্ট অব সোশাল সার্ভিসেস’এর হিসেবে দু’শর বেশি বাস্তুহারা মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। অন্যদিকে ‘রয়টার্স’ বলছে যে, করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো শহরের ১০ হাজার বাস্তুহারা মানুষকে সেখানকার কর্মকর্তারা কোয়ার‍্যান্টাইন বা আলাদা করে রাখার জন্যে সাড়ে ৪ হাজার হোটেল রুম বুক করছে। তবে শহরের কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চাইছে ১৪ হাজার রুম বুকিংএর ব্যবস্থা করে শহরের সব বাস্তুহারাদের আলাদা করার ব্যবস্থা করা। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের মাঝে সান ফ্রান্সিসকো শহরের বাস্তুহারাদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। শহরের কর্মকর্তারা সুনাম ক্ষুন্ন হবে মনে করে হোটেলগুলির নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরগুলিও হোটেল রুমগুলি ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। তবে অনুসন্ধিৎসু সংবাদ সংস্থা ‘ইন্টারসেপ্ট’ এই চেষ্টাগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা বলছেন যে, নিউ ইয়র্কের ৬৩ হাজার বাস্তুহারা হয় শহরের সাড়ে ৪’শ আশ্রয়স্থলে অথবা রাস্তায় থাকছে। ‘দ্যা আরবান জাস্টিস সেন্টার’এর সমাজসেবা কাজের সুপারভাইজর ক্রেইগ হিউজ বলছেন যে, নিউ ইয়র্ক শহরে ১ লক্ষ হোটেল রুম খালি পড়ে রয়েছে, যেখানে সব বাস্তুহারা মানুষেরই থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাস্তুহারাদের একজন ভিক্টোরিয়া উলফ দুঃখ করে বলেন যে, দেশের দ্বিতীয় সারির নাগরিক হিসেবে তাদের দেখা হচ্ছে; কয়েদীদের মতোই।
   
  
২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের হিসেবে মোট ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭’শ ১৫ জন মার্কিনী ছিল বাস্তুহারা। বাস্তুহারাদের মাঝে ৬৩ শতাংশ বিভিন্ন সংস্থার আশ্রমে থাকলেও বাকিরা এখনও রাস্তায় ঘুমায়। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় ঘুমানো মানুষের ৫৩ শতাংশ বা ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে।



বিশ্বব্যাংকের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু আয় প্রায় ৬৩ হাজার ডলার। তথাপি দেশটাতে সকল মানুষের থাকার জায়গা নেই। মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং এন্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট’এর হিসেব বলছে যে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭’শ ১৫ জন মার্কিনী ছিল বাস্তুহারা। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল ৩ শতাংশ বেশি। ক্যালিফোর্নিয়াতে এই বৃদ্ধি ছিল সবচাইতে বেশি। এক বছরের মাঝে সেখানে বাস্তুহারার সংখ্যা সাড়ে ১৬ শতাংশ বা ২১ হাজার বেড়ে যায়। এর মাঝে নিউ ইয়র্ক শহরে ছিল সবচাইতে বেশি ৭৮ হাজার ৬’শ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লস এঞ্জেলেস শহর এবং কাউন্টি; সেখানে বাস্তুহারা ৫৬ হাজারেরও বেশি। এছাড়া সিয়াটলে ১১ হাজার, সান জোসে প্রায় ১০ হাজার, সান ডিয়েগোতে ৮ হাজার, সান ফ্রানসিসকোতে ৮ হাজার, ওকল্যান্ডে ৮ হাজার, সান্টা আনাতে ৮ হাজার, ফিনিক্সএ ৬ হাজার ৬’শ, ওয়াশিংটন ডিসিতে সাড়ে ৬ হাজার বাস্তুহারা। এই বাস্তুহারাদের মাঝে ৬৩ শতাংশ বিভিন্ন সংস্থার আশ্রমে থাকলেও বাকিরা এখনও রাস্তায় ঘুমায়। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় ঘুমানো মানুষের ৫৩ শতাংশ বা ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে, যেখানে মাথাপিছু আয় ৩৫ হাজার ডলারেরও বেশি। রাস্তায় ঘুমানো মানুষের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা সাড়ে ১২ হাজার, যা হলো ফ্লোরিডা রাজ্যে।

সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার পত্রিকা ‘দ্যা মার্কারি নিউজ’এর সাথে কথা বলতে গিয়ে সান্টা ফে কাউন্টির অফিস অব সাপোর্টিভ হাউজিংএর ডিরেক্টর কাই লী বলেন যে, বাস্তুহারা মানুষগুলির স্বাস্থ্যের অবস্থা অন্যদের চাইতে আরও বেশি খারাপ থাকে। কাউন্টির সরকার প্রতিটা হোটেলকে একেকটা রুমের দিনপ্রতি ভাড়া হিসেবে ১’শ ডলার করে দিচ্ছে। তবে হোটেল রুমে থাকার ব্যবস্থা হলেও মানুষগুলির জন্যে খাদ্য এবং অন্যান্য সার্ভিসের ব্যবস্থা করাটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোটেল রুমগুলির অর্থায়নের পরিকল্পনার কিছুটা জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের ‘সিনসিনাট ডক কম’ অনলাইন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে। রাজ্যের হ্যামিল্টন কাউন্টির কমিশনাররা হিসেব করছেন যে, ৩’শ ৩০টা হোটেল রুম তারা কমপক্ষে ৪৫ দিনের জন্যে বুকিং দিচ্ছেন, যেখানে তাদের খরচ হবে ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ তারা মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চাইবেন। হ্যামিল্টন কাউন্টি এপ্রিল মাসের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ১’শ মিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ পেতে যাচ্ছে। তবে তারা এখনও নিশ্চিত নন যে, মার্কিন সরকার বাস্তুহারাদের থাকার জন্যে খরচকে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গণ্য করবে কিনা। ‘স্ট্র্যাটেজিস টু এন্ড হোমলেসনেস’ নামের এক এনজিওএর প্রেসিডেন্ট কেভিন ফিন বলছেন যে, বেশিরভাগ বাস্তুহারা মানুষই আগের মতোই আশ্রয়স্থলে থাকবে। তবে কিছু লোককে আলাদা করে হোটেলে রাখা গেলে আশ্রমে থাকা মানুষগুলি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে থাকতে পারবে। তিনি আরও বলেন যে, হোটেলে রাখা মানুষগুলি মূলতঃ বৃদ্ধ অথবা যাদের আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে। করোনাভাইরাসে এদেরই ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি।
 
সান ডিয়েগোর বাস্তুহারাদের একটা আশ্রয়স্থল। খুব অল্প স্থানে বসবাসের কারণে এখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। তাই কিছু বাস্তুহারাকে বিভিন্ন শহরের খালি পড়ে থাকা হোটেলগুলিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

 

সান ফ্রানসিসকো শহরের বোর্ড অব সুপারভাইজরএর সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, শেষ পর্যন্ত চিন্তা করতে হবে যে, প্রতিটা মানুষের জীবনকে প্রকৃতপক্ষে মূল্য দিয়ে দেখা হচ্ছে কিনা। যাদের বাড়ি রয়েছে, তারা বাড়ির গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। কিন্তু শহরের বাস্তুহারা লোকগুলিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বিপদের দিকে; যার কারণে বাকিরা সকলেই বিপদে পড়বে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলছেন যে, শহরের হোটেল রুমগুলি বাস্তুহারাদের জন্যে বরাদ্দ দিতে যা খরচ হবে, তার ৭৫ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ বহন করবে। তবে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অথবা শারীরিকভাবে দুর্বলদেরকেই কেন হোটেল রুমে রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন অনেকে। ‘কোয়ালিশন অন হোমলেসনেস’এর এক মানবাধিকার কর্মী কেলি কাটলার এই নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, এটা একটা জীবন মরণ সমস্যা; অথচ হোটেল রুমগুলি এখন খালি পড়ে রয়েছে। তবে সান ফ্রানসিসকোর মেয়ন লন্ডন ব্রীড পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, শহরের সকল বাস্তুহারা মানুষকে হোটেলে রাখা সম্ভব নয়। ‘দ্যা গার্ডিয়ান’এর এক চিঠির জবাবে শহরের হিউম্যান সার্ভিসেস এজেন্সির ডিরেক্টর ট্রেন্ট রোরার সরাসরিই বলেন যে, আগামী দুই বছরে শহরের বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার। এমতাবস্থায় শহরের সকল বাস্তুহারার জন্যে হাজার হাজার হোটেল রুম বুকিং করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না। সান ফ্রানসিসকো শহরের একজন সুপারভাইজর ডীন প্রেসটন এই নীতির সমালোচনা করে বলছেন যে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে শহরের জনগণকে বাড়িতে থাকতে এবং দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়ে বাস্তুহারাদের দূরত্ব বজায় রেখে থাকার জন্যে কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকাটা একটা বিরাট সমন্বয়হীনতা; যা কিনা বাস্তুহারাদের প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচায়ক। ‘ওয়েস্টার্ন রিজিওনাল এডভোক্যাসি প্রজেক্ট’এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পল বোডেন সারসংক্ষেপে বলেন যে, আসলে মানুষ মনে করছে না যে বাস্তুহারারা হোটেল রুমে থাকার যোগ্য! এদেরকে শুধুমাত্র দৃষ্টির অগোচরে রাখতে পারলেই হলো।

যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশা পশ্চিমা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার একটা স্বাভাবিক চিত্রই বটে। পৃথিবীর সবচাইতে ধনী দেশগুলির একটা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৫ লাখের বেশি মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মাথাপিছু ৬৩ হাজার ডলারের আয় যে কতটা অন্তসারশূণ্য, তা বাস্তুহারাদের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। তদুপরি, করোনাভাইরাসের দুর্যোগের মাঝেও এই মানুষগুলির থাকার স্থান নিয়ে চলছে দরকষাকষি। মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজের মাঝ থেকে কিছু অর্থ আলাদা করে বিভিন্ন শহর, কাউন্টি এবং রাজ্যের সরকারগুলি বিভিন্ন হোটেলে বাস্তুহারাদের থাকার ব্যবস্থা করছে। এই ব্যবস্থায় হোটেল মালিকদের ক্ষতি পোষাবার ব্যবস্থা হচ্ছে শুধু; বাস্তুহারাদের মাথা গোঁজার সমস্যার স্থায়ী কোন সমাধান হচ্ছে না। অর্থাৎ মার্কিন ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ যাচ্ছে হোটেল মালিকদের পকেটে। শুধু তা-ই নয়, সমাজে বাস্তুহারাদের প্রতি যে বৈষম্যের দৃষ্টিভঙ্গি লালনপালন করা হয়েছে, তা বাস্তুহারাদের দুর্দশাকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। এহেন বৈষম্যপূর্ণ ব্যবস্থা মার্কিনীদের বিবেককেও নাড়া দিয়েছে, যা কিনা লাস ভেগাসের পার্কিং লটে বাস্তুহারাদের থাকার ব্যবস্থা করার পর সোশাল মিডিয়াতে জনগণের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়। একইসাথে এই চিত্রগুলি জনগণের সামনে উন্নত দেশের মাথাপিছু গড় আয়ের দম্ভটাকেও এখন অন্তসারশূণ্য করে দিয়েছে।

Sunday, 5 April 2020

পশ্চিমা দেশগুলিতে বর্ণবাদী চিন্তাকে উস্কে দিয়েছে করোনাভাইরাস!

৫ই এপ্রিল ২০২০

     
ফ্রান্সের নঁতে শহরে গ্রাফিতি বলছে, ‘করোনাভাইরাস যত মানুষকে অসুস্থ্য করেছে, তার চাইতে বেশি মানুষকে বর্ণবাদী করেছে’



গত পহেলা এপ্রিল দু’জন ডাক্তার ফরাসী টিভিতে এসে মতামত দেন যে, নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আফ্রিকার জনগণের উপর টেস্ট করে দেখা যেতে পারে। এই মন্তব্যের পর থেকে এই ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। টিভি চ্যানেল ‘এলসিআই’এর সাথে সাক্ষাতে প্যারিসের কোচিন হসপিটালের আইসিইউএর প্রধান জঁ-পল মিরা বলেন যে, এইডসএর ভ্যাকসিন টেস্ট করার জন্যে যেমন পতিতাদের বেছে নেয়া হয়েছিল, তেমনি করোনাভাইরাসের প্রতিরোধক হিসেবে যক্ষ্মার প্রতিরোধক ‘বিসিজি’ ভ্যাকসিন টেস্ট করার জন্যে আফ্রিকার মানুষগুলিকে বেছে নেয়া যেতে পারে; কারণ পতিতাদের যেমন এইডসএর বিরুদ্ধে আলাদা কোন প্রতিরোধ নেই, তেমনি আফ্রিকার মানুষগুলিরও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ নেই। তিনি যুক্তি দেন যে, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল কর্মীরা যথেষ্ট সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন, যার ফলে এমনিতেই তাদের করোনভাইরাসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম থাকবে; তাদেরকে ভ্যাকসিন দেয়া হোক আর না হোক। ফ্রান্সের ন্যাশনাল হেলথ ইন্সটিটিউটের রিসার্চ ডিরেক্টর ক্যামিল লক্ট তার সাথে সহমত পোষণ করে বলেন যে, তারা ইতোমধ্যেই ইউরোপের সমান্তরালে আফ্রিকাতেও এই টেস্ট চালাবার চিন্তা করছেন। এই টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রায় সাথেসাথেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। আইভোরি কোস্টের বিখ্যাত ফুটবলার দিদিয়ের দ্রগবা এক টুইটার বার্তায় বলেন যে, এটা আশ্চর্য্য একটা ব্যাপার যে এধরণের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বারংবার সাবধান করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, আফ্রিকা কোন টেস্টিং ল্যাবরেটরি নয়। তিনি তাদের কথাগুলিকে বর্ণবাদী কথা বলে আখ্যা দেন। দ্রগবার মতো ফ্রান্সের সোশালিস্ট পার্টি এবং বর্ণবাদ বিরোধী গ্রুপগুলিও বিবৃতি দিয়েছে।

‘আল জাজিরা’ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আফ্রিকা এই মুহুর্তে সবচাইতে কম আক্রান্ত মহাদেশ, যেখানে সাড়ে ৭ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গিয়েছে মোট ৩’শ ২০ জন। জঁ-পল মিরা পরবর্তীতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ‘হাফিংটন পোস্ট’এর সাথে কথা বলতে গিয়ে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা হিসেবে বলেন যে, ফ্রান্স এবং আস্ট্রেলিয়ার সাথে আফ্রিকার একটা দেশ এই গবেষণার অংশ হতে পারে, এধরনের কথা আগে কখনোই শোনা যায়নি। ‘বিবিসি’ এক সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল টেনে নিয়ে এসে বলে যে, যক্ষ্মার প্রতিরোধে ‘বিসিজি’ ভ্যাকসিন বা টিকা যেসব দেশে জনগণের মাঝে দেয়া হয়েছে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা কম হয়ে থাকতে পারে। তারা বলছেন যে, যেসব দেশে যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি, সেসব দেশেই শিশুদের মাঝে ‘বিসিজি’ ভ্যাকসিন দেবার প্রচলন রয়েছে। এই চিন্তার উপর নির্ভর করেই কিছু গবেষক ‘বিসিজি’ ভ্যাকসিনকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহার করা যায় কিনা, তা নিয়ে চিন্তা করছেন। তবে এই টিভি সাক্ষাতের পর থেকে ভ্যাকসিনের চাইতে পশ্চিমা সমাজের বর্ণবাদ নিয়েই কথা হচ্ছে বেশি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হবার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে বর্ণবাদী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী আচরণের খবর আবারও সংবাদপত্রে আসা শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রীটে এক সিঙ্গাপুর বংশোদ্ভূত ব্যক্তির উপর চার ব্যক্তি হামলা করে ব্যাপক মারধর করে। হামলাকারীরা বলে যে, ‘আমরা তোমার করোনাভাইরাস আমাদের দেশে চাই না’। ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে মাস্ক পড়া এক চীনা বংশোদ্ভূত মহিলার উপর হামলা করা হয় এবং তাকে ‘রোগের বাহক’ বলে আখ্যা দেয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক এশিয় পরিবারের গাড়ির উপর করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে গালাগালি লেখা হয়। ক্যালিফোর্নিয়াতে এক স্কুলে চীনা বংশোদ্ভূত এক ছাত্রকে কাশি দেবার কারণে শিক্ষক নার্সের কাছে যেতে বলেন, যদিও অন্যদের জন্যে তিনি তা বলেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ই মার্চ এক টুইটার বার্তায় করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যা দেবার সাথেসাথেই চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের মাঝে নতুন করে শংকা দেখা দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের জনপ্রতিনিধি গ্রেইস মেং একজন চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিনী। তিনি ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এর সাথে সাক্ষাতে বলেন যে, বিভিন্ন দেশে চীনাদের বিরুদ্ধে হয়রানি এবং আক্রমণের ঘটনার খবর শুনে মনে হয় যে, চীনা বংশোদ্ভূত জনগণকে এখনও বিদেশী বলেই আখ্যা দেয়া হয়। পত্রিকাটা বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে যুগের পর যুগ বর্ণবাদ এবং বৈষম্য পেরিয়ে এশিয় বংশোদ্ভূতরা অনেক আশা নিয়ে একুশ শতক শুরু করেছিল। তিনজন এশিয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছেন, যা কিনা এশিয়দের মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর থেকে মার্কিন শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীরা এশিয় বংশোদ্ভূতদেরকে ভাইরাসের সংক্রমণের জন্যে দায়ি করতে থাকে এবং একইসাথে এশিয়দের উপর বিপুল সংখ্যায় আক্রমণ আসতে থাকে। শতশত মানুষ হামলার কথা রিপোর্ট করলেও বহু মানুষ এব্যাপারে কোন রিপোর্টই করেনি।
   
 
বহু আগ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চীনাদেরকে অপেক্ষাকৃত নিচু স্তরের, নোংড়া এবং রুগ্ন মানুষ হিসেবে দেখা হতো। ১৮৭০ সাল থেকে চীন থেকে আসা শ্রমিকদেরকে শ্বেতাঙ্গরা তাদের চাকুরি হারাবার কারণ হিসেবে দেখতে থাকে। ১৮৮২ সালে এক আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা শ্রমিকের আসা বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর ১৯৪০এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাপানিদের ভাগ্যে জোটে ব্যাপক অত্যাচার। যুক্তরাষ্ট্রে বরাবরই এশিয় এবং অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ দেশ থেকে আগত জনগণকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের মানুষ এবং রোগের বাহক হিসেবে দেখা হয়েছে।




জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের প্রফেসর রসালিন্ড চৌ বলছেন যে, তিনি এখন জনসন্মুখে কাশি দিতেও ভয় পান। কারণ তিনি মনে করছেন যে, এশিয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় তাকে কাশি দিতে দেখে অন্যরা সেটাকে কিভাবে দেখবে। ‘দ্যা গার্ডিয়ান’এর সাথে কথা বলতে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর ক্লেয়ার জীন কিম বলেন যে, বহু আগ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চীনাদেরকে অপেক্ষাকৃত নিচু স্তরের, নোংড়া এবং রুগ্ন মানুষ হিসেবে দেখা হতো। ১৮৭০ সাল থেকে চীন থেকে আসা শ্রমিকদেরকে শ্বেতাঙ্গরা তাদের চাকুরি হারাবার কারণ হিসেবে দেখতে থাকে। ১৮৮২ সালে এক আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা শ্রমিকের আসা বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর ১৯৪০এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জাপানিদের ভাগ্যে জোটে ব্যাপক অত্যাচার। যুক্তরাষ্ট্রে বরাবরই এশিয় এবং অন্যান্য অশ্বেতাঙ্গ দেশ থেকে আগত জনগণকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের মানুষ এবং রোগের বাহক হিসেবে দেখা হয়েছে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরে গাড়ির ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা কিছু লোক ভিনসেন্ট চিন নামে এক চীনা আমেরিকানকে পিটিয়ে হত্যা করে। সেসময় তারা তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্যে এশিয়দেরকে দায়ি করেছিল। এরপর ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাদামি বর্ণের যেকোন মানুষ দেখলেই তাকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দেয়া হতো। এখন করোনাভাইরাসের প্রভাব কবে কমবে, তা যেহেতু কেউই বলতে পারছে না, তাই এশিয়দের বিরুদ্ধে মার্কিন উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গদের আক্রমণাত্মক এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

‘দ্যা আটলান্টিক’এর এক লেখায় বলা হচ্ছে যে, পশ্চিমা সমাজে মহামারী সবসময়েই ভীতির সঞ্চার করেছে। আর এই ভীতি শেষ পর্যন্ত বৈষম্যের মাঝ দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের সময় পূর্ব এশিয়দের টার্গেট করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাসের কারণে টার্গেট করা হয়েছিল আফ্রিকানদের। ইবোলা ভাইরাসের নাম দেয়া হয়েছে আফ্রিকার একটা নদীর নামে; যেকারণে এই ভাইরাসটা স্বাভাবিকভাবেই আফ্রিকান ভাইরাস হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১২ সালে সংক্রমিত হওয়া ‘মিডল ইস্ট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম’ বা ‘মার্স’ ভাইরাসের নামের সাথেই মধ্যপ্রাচ্যকে জুড়ে দেয়া হয়। এবারে করোনাভাইরাসকে একইভাবে অনেক মার্কিন নেতারা ‘উহান ভাইরাস’ বলে আখ্যা দিতে কার্পণ্য করেননি। ইউরোপের উগ্রবাদী ডানপন্থী নেতারা ভাইরাসের সংক্রমণকে যুক্ত করতে চাইছেন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সাথে। ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স এবং স্পেনে ডানপন্থী নেতারা ভাইরাস সংক্রমণের কারণ হিসেবে এশিয় এবং আফ্রিকান অভিবাসীদের দুষতে ভুল করেননি। ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মিরি সং ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের সাথে এক সাক্ষাতে বলেন যে, মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছুতোয় বাহ্যিকভাবে আলাদা করা যায় এমন গ্রুপগুলিকে টার্গেট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের মতো দেশে এটা বাকিদের চাইতে অনেক বেশি হয়েছে। ‘নাইন ইলেভেন’এর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা, বা আরব, মুসলিম এবং শিখদের উপর হামলা বেড়ে যায়। ব্রিটেনেও ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে জাতিগত এবং ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
  
  
চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে প্লেগের আবির্ভাব হয়, যা ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বলে পরিচিত। সেসময় ইউরোপিয়রা মনে করেছিল যে, ইহুদী বণিকরা সিল্ক রুটের মাধ্যমে ইউরোপে প্লেগ এনেছিল। এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে সারা ইউরোপে ইহুদীদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার চলেছিল। ১৩৪৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ গণহত্যা ছিল সবচাইতে ভয়াবহ; যখন ২ হাজার ইহুদীকে স্ট্রাসবুর্গ শহরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। মানুষকে রোগের বাহক বা তেলাপোকার সাথে তুলনা দিলে হত্যা করাটা সহজতর হয়েছে। এই কথাগুলি পশ্চিমা সমাজের গোঁড়ার সমস্যাকেই তুলে ধরে। করোনাভাইরাস এই সমস্যাকে শুধু আরেকবার সামনে নিয়ে এলো মাত্র।



ইউনিভার্সিটি অব বাথএর প্রফেসর ব্র্যাড ইভান্স ব্রিটেনের ‘দ্যা ইন্ডেপেন্ডেন্ট’এর এক লেখায় পশ্চিমা সমাজের বর্ণবাদের ইতিহাসকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে প্লেগের আবির্ভাব হয়, যা ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বলে পরিচিত। সেসময় ইউরোপিয়রা মনে করেছিল যে, ইহুদী বণিকরা সিল্ক রুটের মাধ্যমে ইউরোপে প্লেগ এনেছিল। এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে সারা ইউরোপে ইহুদীদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার চলেছিল। ১৩৪৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ গণহত্যা ছিল সবচাইতে ভয়াবহ; যখন ২ হাজার ইহুদীকে স্ট্রাসবুর্গ শহরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। ইভান্স বলছেন যে, বর্ণবাদ ও জাতিগত বিদ্বেষ পশ্চিমাদের জীবনব্যবস্থার মাঝে গেঁথেই ছিল। ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো পশ্চিমা চিন্তাগুলি এই বিদ্বেষকে নিয়ন্ত্রণ তো করেইনি, বরং লালনপালন করেছে। প্রতিটা গণহত্যার সময়ই সমাজের কিছু মানুষকে ইঁদুরের সাথে তুলনা দেয়া হয়েছে; বলা হয়েছে যে, এরা হলো রোগের বাহক। মানুষকে রোগের বাহক বা তেলাপোকার সাথে তুলনা দিলে হত্যা করাটা সহজতর হয়েছে। ইভান্সএর কথাগুলি পশ্চিমা সমাজের গোঁড়ার সমস্যাকেই তুলে ধরে। করোনাভাইরাস এই সমস্যাকে শুধু আরেকবার সামনে নিয়ে এলো মাত্র।