Showing posts with label Strong State. Show all posts
Showing posts with label Strong State. Show all posts

Thursday, 27 April 2017

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ওভারসীজ ট্রেনিং কমান্ড গড়ার সময় এসেছে

২৭শে এপ্রিল ২০১৭

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সৈন্যদের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণের মাঝে দিয়ে বেশকিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে বটে, তবে সেই অপারেশনগুলি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সীমিত অবদানই রাখবে। কারণ শান্তিরক্ষী মিশনের লক্ষ্য বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রভাব বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ বড় ভূমিকা রাখবে না। সত্যিকার অর্থে, এধরনের প্রভাব বৃদ্ধি যাতে না হয়, জাতিসংঘ সেটা লক্ষ্য রাখে। কাজেই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শান্তিরক্ষী মিশনের বাইরেও অপশন খুঁজতে হবে।


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সক্ষমতার বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ্বের কাছে বাড়ছে বাংলাদেশের সন্মান, প্রতিপত্তি, প্রভাব। এর মাঝে যে ব্যাপারটি বড় একটি ভূমিকা রাখে তা হলো সামরিক সক্ষমতা। এই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রের বর্তমান প্রচেষ্টা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়ের সাথে সাথে সক্ষমতা তৈরির নীতির জানান দেয়া হয়েছে মাত্র। তবে সাবমেরিনের এই উপাখ্যান দরকার ছিল পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের নামকে জাহির করার। যদিও এই জাহির করার মাঝে একটি কালো দাগ পড়েছে ভারতের সাথে সামরিক সমঝোতা করার মাঝ দিয়ে। তথাপি সক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টা রাষ্ট্রের চিন্তাশীল মহল অব্যাহতই রাখতে চান, এবং একইসাথে ভারতের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় দেখার ইচ্ছাই এক্ষেত্রে প্রবল। ভারতের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান চিন্তা হবে বাংলাদেশের প্রভাবকে বৃদ্ধি করা। এই প্রভাব বৃদ্ধি ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে জাকার্তায় আইওআরএ শীর্ষ বৈঠকে, ঢাকায় আইপিইউ সন্মেলনে, কসোভোকে স্বীকৃতির মাঝ দিয়ে, এবং এশিয়া-আফ্রিকা-দক্ষিণ আমেরিকায় কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ডকে ভিন্ন উচ্চতায় নেবার মাধ্যমে। এখান এই প্রভাবের মাঝে সামরিক সক্ষমতাকে ‘ফিট’ করার পালা।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সৈন্যদের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণের মাঝে দিয়ে বেশকিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে বটে, তবে সেই অপারেশনগুলি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সীমিত অবদানই রাখবে। কারণ শান্তিরক্ষী মিশনের লক্ষ্য বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রভাব বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ বড় ভূমিকা রাখবে না। সত্যিকার অর্থে, এধরনের প্রভাব বৃদ্ধি যাতে না হয়, জাতিসংঘ সেটা লক্ষ্য রাখে। কাজেই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শান্তিরক্ষী মিশনের বাইরেও অপশন খুঁজতে হবে।
   
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল নাইজেরিয়া সফরের ছবি। বাংলাদেশ পৃথিবীতে বন্ধু খোঁজে। আর সেকারণেই আফ্রিকার বহু দেশে বাংলাদেশের বন্ধু তৈরি হয়েছে, যেখানে অনান্য অনেক দেশ নির্যাতকের তকমা নিয়ে আফ্রিকা ছাড়ছে। বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক এবং সামরিক সক্ষমতা গড়াটা রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ার সাথে সম্পর্কিত। আর এখানেই আবারও আসছে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার কথা। বাংলাদেশের বন্ধুত্বের নীতির সাথে এর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধুর সাথে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার বিনিময় – এটাই হতে পারে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মূলমন্ত্র।


বন্ধুর সাথে প্রশিক্ষণ – নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার উত্তম ক্ষেত্র


বাংলাদেশ পৃথিবীতে বন্ধু খোঁজে। আর সেকারণেই আফ্রিকার বহু দেশে বাংলাদেশের বন্ধু তৈরি হয়েছে, যেখানে অনান্য অনেক দেশ নির্যাতকের তকমা নিয়ে আফ্রিকা ছাড়ছে। বন্ধু বন্ধুর বাড়িতে ঢোকে দরজা দিয়ে; কারণ বন্ধু বন্ধুর জন্যেই দরজা খুলে দেয়। চোর বা ডাকাত বাড়িতে ঢোকে সিঁদ কেটে। চোরের তাই দরকার হয় সিঁদ কাটা যন্ত্রপাতির। বাংলাদেশের সেধরণের যন্ত্রপাতির দরকার নেই। বরং বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হয়, এমন জিনিসই বাংলাদেশ সাথে নেবে। বন্ধুর কাছ থেকে বন্ধু কিছু পায়; চোরের কাছ থেকে নয়। বরং চোর মানুষের কাছ থেকে জিনিস কেড়ে নেয়। বাংলাদেশের বন্ধুরাও বাংলাদেশের কাছ থেকে কিছু পাবে; তাই তারাও বাংলাদেশের বন্ধু হতে চাইবে। বাংলাদেশ সামরিক দিক থেকে প্রশিক্ষণকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা সারা বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রফেশনালিজম বাকি দুনিয়ার মানুষ দেখেছে বিভিন্ন সময়ে। আর সেকারণেই পৃথিবীর বহু দেশের সামরিক অফিসাররা এখানে আসে প্রশিক্ষণের জন্যে। এই একই ইমেজটা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ধরে রেখেছে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষী মিশনে। তবে এখন এই শান্তিরক্ষী মিশনের মাঝে আটকে না থেকে অভিজ্ঞতা এবং প্রফেশনালিজমকে পুঁজি করে বাকি বিশ্বের কাছে বন্ধুত্বের বাণী পৌঁছে দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ হবে উত্তম একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রভাবকে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে যে বিষয়গুলি বেশি গুরুত্ব পাবে, তার মাঝে থাকবে প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী নিজ দেশে অন্য দেশের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় দেশের মাটিতে নিজেকে আটকে রাখাটা দূরদর্শিতার পরিচায়ক নয়। বাংলাদেশের নিরাপত্তা এখন শুধু ১৯৪৭-এ ব্রিটিশদের নির্ধারণ করে দেয়া ১ লক্ষ ৪৪ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মাঝে নয়। যখন প্রায় কোটিখানেক বাংলাদেশী দুনিয়ার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে, তখন এদেশের সশস্ত্র বাহিনীর দেশে বসে বসে ভাববার সময় নেই। বাংলাদেশের হাজারো সৈন্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে; বিশেষ করে আফ্রিকায়। সুতরাং নিরাপত্তার সংজ্ঞা নিয়ে ভাববার সময় এখন এসেছে; নিরাপত্তা-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা নিয়েও ভাববার সময় এসেছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিরাপত্তা দেবার মতো সক্ষমতা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর থাকতে হবে। নাহলে রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বুলি ফাঁপা ঠেকবে। ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরুর পর সেই দেশ থেকে বাংলাদেশীদের সরিয়ে আনার জন্যে ভারতের (যাকে কিনা শত্রু রাষ্ট্র জ্ঞান করে দেশের বেশিরভাগ জনগণ) দ্বারে ধর্ণা দিতে হয়েছে, যা কিনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উন্নত করেনি, বরং আরেকটি রাষ্ট্রের কাছে ঋণগ্রস্ত করে কূটনৈতিকভাবে দেশকে দুর্বল করেছে। কাজেই বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক এবং সামরিক সক্ষমতা গড়াটা রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ার সাথে সম্পর্কিত। আর এখানেই আবারও আসছে প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার কথা। বাংলাদেশের বন্ধুত্বের নীতির সাথে এর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধুর সাথে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার বিনিময় – এটাই হতে পারে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মূলমন্ত্র।

বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাইরে প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পদ্ধতি নিয়ে সক্ষমতা-বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। যেমন বাংলাদেশের বাইরে এই প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা কি বাংলাদেশের আছে? উত্তরে বলতে হবে যে অবশ্যই আছে। তবে একইসাথে এটাও বলতে হবে যে এই সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। এই সক্ষমতাকে পরবর্তী উচ্চতায় নিতে কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তন দরকার। যেমন, বাংলাদেশের বাইরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে কিছু ইউনিট গঠন করে সেগুলিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পোস্টিং দেয়া যেতে পারে। এধরণের একটি ইউনিট সব বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। একটি ‘ওভারসীজ ট্রেনিং কমান্ড’এর অধীনে নিম্নোক্ত কিছু ইউনিট গঠন করা যেতে পারে –
  
সেনাবাহিনীর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট থাকা উচিত, যা কিনা একত্রে বাংলাদেশের বাইরে মোতায়েন করা যাবে। আর বেশ কিছুদিনের জন্যে মোতায়েনও থাকতে পারবে। এর মূল ইউনিটটি একটি ব্যাটালিয়ন হলেও এর সাথে বেশকিছু অনান্য ইউনিট থাকা উচিত, যা কিনা একে কমপক্ষে ব্রিগেড পর্যায়ের মর্যাদা দেবে। আর ইউনিটটির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে এর মোবিলিটি। এর সকল কিছুই হবে হাইলি মোবাইল। তবে মোতায়েনের এলাকার উপর ভিত্তি করে এর কম্পোজিশন পরিবর্তিত করা যেতে পারে।

সেনা ইউনিটঃ

সেনাবাহিনীর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট থাকা উচিত, যা কিনা একত্রে বাংলাদেশের বাইরে মোতায়েন করা যাবে। আর বেশ কিছুদিনের জন্যে মোতায়েনও থাকতে পারবে। এর মূল ইউনিটটি একটি ব্যাটালিয়ন হলেও এর সাথে বেশকিছু অনান্য ইউনিট থাকা উচিত, যা কিনা একে কমপক্ষে ব্রিগেড পর্যায়ের মর্যাদা দেবে। আর ইউনিটটির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে এর মোবিলিটি। এর সকল কিছুই হবে হাইলি মোবাইল। তবে মোতায়েনের এলাকার উপর ভিত্তি করে এর কম্পোজিশন পরিবর্তিত করা যেতে পারে। এখানে ইউনিটের সংখ্যা সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই ইউনিটে থাকতে পারে -

১। একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন

২। মেকানাইজড ইউনিট (বিটিআর-৮০ এপিসি – ২০টি এবং অতোকার কোবরা এপিসি – ১২টি)

৩। আর্টিলারি ইউনিট (ডব্লিউএস-২২ রকেট লঞ্চার – ৪টি, নোরা বি-৫২ হাউইটজার – ৬টি এবং এসএলসি-২ রাডার – ১টি)

৪। এয়ার ডিফেন্স ইউনিট (একটি এফএম-৯০ ইউনিট)

৫। ট্রান্সপোর্ট ইউনিট (২০টি ট্রাক, ২০টি টেকনিক্যাল। সাথে এটিজিম থাকা উচিত।)

৬। ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট (সাথে মাইন ক্লিয়ারেন্স এবং রিভার ক্রসিং ইকুইপমেন্ট থাকতে পারে)

৭। সিগনালস ইউনিট (স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সহ)

৮। মেডিক্যাল ইউনিট

৯। মেইনটেন্যান্স ইউনিট

১০। প্যারাকমান্ডোদের একটি ডিটাচমেন্ট

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময়ের ছবিতে ব্রিটিশ রয়েল নেভির কনটেইনার জাহাজ 'এটলান্টিক কনভেয়র'এর ডেকের উপরে বিমানের সারি দেখা যাচ্ছে। এরকম জাহাজ ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম অনেক দূরে পরিবহণ করা সম্ভব।

  নৌ ইউনিটঃ

এর প্রধান কাজ হবে সেনা এবং বিমান ইউনিটসমূহকে পরিবহণ করা এবং পরিবহণ করার ও বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানের সময় সমুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একইসাথে বন্ধুদেশের নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সাথে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া। এখানে সাতটি জাহাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ইউনিট এর চাইতে ছোট বা বড় হতে পারে। যে জাহাজগুলি এখনও বাংলাদেশের নেই, সেগুলি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়া হয়েছে কিছু উদাহরণের মাধ্যমে। এখানে এই নৌ ইউনিটটি বন্ধু দেশের বন্দরের উপরে নির্ভর করবে; অর্থাৎ বন্ধুর বাড়িতে ঢোকার পথ হলো বন্ধুই দরজা খুলবে। এখানে এমন কোন ইউনিট থাকবে না, যা কিনা বন্ধুর বাড়ির জানালার সিঁদ কেটে ঢোকার মতো মনে হয়।

এই ইউনিটে থাকতে পারে -

১। একটি ফ্রিগেট (সাথে একটি হেলিকপ্টার থাকলে সবচাইতে ভালো; না থাকলে অন্য কোন ইউনিটে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে হবে)

২। একটি এলপিসি (দুর্জয়-ক্লাস)

৩। একটি ওপিভি (কোস্ট গার্ডের সাদা রঙের একটি জাহাজ এখানে বেশি মূল্যবান হবে)

৪। একটি ট্রুপ শিপ (১,০০০ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি জাহাজ, যা বাণিজ্যিকভাবে কিনে নিজেদের প্রয়োজনে পরিবর্তন করে নেয়া যেতে পারে। এতে অবশ্যই ১,০০০ মানুষের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। হেলিপ্যাড এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন অতি দরকারী ব্যাপার হবে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রাক্তন জাহাজ বিএনএস শহীদ সালাহউদ্দিন-এর নাম বলা যেতে পারে, যদিও এখন এর চাইতে আরও আপডেটেড জাহাজ দরকার হবে।)

৫। একটি কনটেইনার শিপ (১৬০ থেকে ১৮০ মিটারের মাঝে, যা কিনা চট্টগ্রাম বন্দরে ঢুকতে পারে এবং আফ্রিকার বেশিরভাগ বন্দরে ঢুকতে পারবে। এটিকে বিমান এবং অনান্য সরঞ্জামাদি পরিবহণে ব্যবহার করা হবে। বাণিজ্যিকভাবে কিনে এটাকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে হবে যাতে ডেকের উপরে বিমান বহণ করা যায়। মোটামুটি ১৪-১৫টা বিমান বহণ করার মতো সক্ষমতা থাকলে এটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কিছু অংশ হেলিপ্যাডের জন্যে খোলা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হবে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ রয়াল নেভির ব্যবহৃত ২১২ মিটার লম্বা এবং ১৫,০০০ টনের ‘আটলান্টিক কনভেয়র’ এবং ‘আটলান্টিক কজওয়ে’, যেগুলির ডেকের উপরে করে ২৪ থেকে ২৮টি বিমান নেয়া হয়েছিল ফকল্যান্ডে।)

ব্রিটিশ রয়েল নেভির 'পয়েন্ট-ক্লাস'-এর রো-রো ফেরি, যা কিনা বেশ কয়েক'শ গাড়ি বহনে সক্ষম। এরকম জাহাজে একটি সামরিক ইউনিটের প্রায় সকল গাড়িই বহুদূর পর্যন্ত বহন করা সম্ভব।

 ৬। একটি রো-রো ফেরি (বাণিজ্যিকভাবে কিনে এটাকে নিজেদের প্রয়োজনে পরিবর্তন করে নেয়া যাবে। সামরিক গাড়ি এবং সরঞ্জাম এই ফেরি বহণ করবে। এটার আকারও ১৬০ থেকে ১৮০ মিটারের মতো হওয়া উচিত বন্দর সুবিধা নেবার জন্যে। উদাহরণস্বরূপ রয়াল নেভির ‘পয়েন্ট-ক্লাস’এর কথা বলা যেতে পারে। ১৯৩ মিটার এবং ২৩,০০০ টনের এই জাহাজগুলি ১৩০টি সাঁজোয়া যান এবং ৬০টি ট্রাক বহণ করতে পারে।)

৭। একটি সাপ্লাই জাহাজ (পথে জ্বালানি বা অন্য কোনকিছুর সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে পারার মতো। তবে পুরো পথের সরবরাহ নিশ্চিতের দরকার নেই। বাংলাদেশের জাহাজ পৃথিবীর বেশিরভাগ বন্দরেই “ওয়েলকাম”)

৮। স্পেশাল ফোর্স সোয়াডস-এর একটি ডিটাচমেন্ট (সাথে হাই-স্পিড বোট থাকা উচিত।)


আফ্রিকার কঙ্গোতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ পরিবহণ বিমান। বাংলাদেশের বাইরে প্রশিক্ষণ মিশনে বিমান থাকাটা অবশ্য দরকারি।


বিমান ইউনিটঃ

বিমান ইউনিটের মাঝে সব ধরনের বিমানই রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সকল ক্ষেত্রেই দরকার; তাই বিমানের ধরনের ক্ষেত্রেও তা-ই হওয়া উচিৎ। সংখ্যার দিক থেকে একটা ধারণা এখানে দেয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে যে এখানে যে সংখ্যা বলা হবে, তা কিন্তু পরিবহণও করতে হবে।

এই ইউনিটে থাকতে পারে -

১। একটি ফাইটার ইউনিট (এফ-৭বিজি – ৪টি এবং এফ-৭বিজিআই ৪টি)

২। একটি ট্রান্সপোর্ট ইউনিট (এলইটি-৪১০ – একটি। এটি নিজ শক্তিতে উড়ে গন্তব্যে যাবে, যদিও বাকিরা যাবে জাহাজে।)

৩। হেলিকপ্টার ইউনিট (এমআই-১৭১ – ৪টি এবং আগুস্টা এ-১০৯ – ২টি)

৪। ড্রোন ইউনিট (অবজারভেশন মিশনের জন্যে একটি ড্রোন ইউনিট অবশ্যই থাকা উচিত)

৫। রাডার ইউনিট (একটি এয়ার সার্চ রাডার গ্রাউন্ডে বসানোর জন্যে এই কমান্ডে থাকা উচিত)

৬। মেইনটেন্যান্স ইউনিট

৭। এয়ারবেইস ইউনিট (এরকম ইউনিট বাংলাদেশ আফ্রিকার একাধিক দেশে মোতায়েন করেছে। এরকমই আরেকটি ইউনিট এই কমান্ডে থাকতে পারে।)


কোস্ট গার্ডের সাদা রঙের একটি জাহাজ ওভারসীজ ট্রেনিং-এ খুবই মূল্যবান হবে। ‘ওভারসীজ ট্রেনিং কমান্ড’এর মাধ্যমে এরকম মিশনে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রফেশনালিজম যেমন আরও উন্নত হবে, তেমনি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বন্ধুর সংখ্যা বাড়বে। একইসাথে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির উন্নয়ন হবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। শক্তিশালী বাংলাদেশ শুধু কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না, বাস্তব জীবনে দেখাতে হবে। আর সেক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।


উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি রাষ্ট্রের কথা বলা যেতে পারে, যাদের সাথে বন্ধুপ্রতীম প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান হতে পারে; যেমন – শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, ইত্যাদি। দূরত্ব হিসেবে এধরনের প্রশিক্ষণ মিশনের দৈর্ঘ্য নির্ধারিত হতে পারে। ‘ওভারসীজ ট্রেনিং কমান্ড’এর মাধ্যমে এরকম মিশনে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রফেশনালিজম যেমন আরও উন্নত হবে, তেমনি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বন্ধুর সংখ্যা বাড়বে। একইসাথে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির উন্নয়ন হবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। শক্তিশালী বাংলাদেশ শুধু কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না, বাস্তব জীবনে দেখাতে হবে। আর সেক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।


Wednesday, 12 April 2017

বাংলাদেশ- জাপান সম্পর্ক কোনদিকে যাবে?

১৩ই এপ্রিল ২০১৭

জাপানের কোস্ট গার্ড খুবই সমৃদ্ধ। ১২ হাজার সদস্যের এই বাহিনী আকারে আরেকটি নৌবাহিনীর মতো। পূর্ব চীন সাগরে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় কোস্ট গার্ডের গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছে আরও বেশি। কোস্ট গার্ড সেদেশের নেতৃত্বকে আরও একটি অপশন দেয়। যেখানে নৌবাহিনী পাঠানোটা কূটনৈতিক দিক থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে কোস্ট গার্ডের জাহাজ পাঠানোকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে হতে পারে। সাদা রঙের জাহাজের বিরুদ্ধে সাদাই মোতায়েন করতে হবে – এরমকম একটা অলিখিত নিয়মই যেন সবাই মেনে চলছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, নিজের শক্তিকে উপরে তুলে ধরতে কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলি ক্রমেই বড় থেকে আরও বড় হচ্ছে।



জাপানের নৌশক্তির নানাবিধ ব্যবহার

জাপানের নৌবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আগ্রাসী কোন কর্মকান্ড থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার পরেও পৃথিবীর সবচাইতে বড় নৌবাহিনীগুলির একটি। এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫১ হাজার; রয়েছে ১৫০টির মতো জাহাজ এবং ৩৫০টির মতো বিমান। জাপানের কোস্ট গার্ডও খুবই সমৃদ্ধ। ১২ হাজার সদস্যের এই বাহিনী আকারে আরেকটি নৌবাহিনীর মতো। পূর্ব চীন সাগরে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় কোস্ট গার্ডের গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছে আরও বেশি। কোস্ট গার্ড সেদেশের নেতৃত্বকে আরও একটি অপশন দেয়। যেখানে নৌবাহিনী পাঠানোটা কূটনৈতিক দিক থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে কোস্ট গার্ডের জাহাজ পাঠানোকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে হতে পারে। সাদা রঙের জাহাজের বিরুদ্ধে সাদাই মোতায়েন করতে হবে – এরমকম একটা অলিখিত নিয়মই যেন সবাই মেনে চলছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, নিজের শক্তিকে উপরে তুলে ধরতে কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলি ক্রমেই বড় থেকে আরও বড় হচ্ছে। জাপানের কোস্ট গার্ডের সবচাইতে বড় জাহাজ হলো শিকিশিমা-ক্লাসের দু’টি জাহাজ, যেগুলি একেকটি ৯,৩০০ টনের এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত লম্বা। এগুলির গতি ২৫ নটিক্যাল মাইল এবং রেঞ্জ ২০ হাজার নটিক্যাল মাইল। অস্ত্র হিসেবে আপাতত ৩৫মিঃমিঃ-এর দু’টি কামান এবং ২০মিঃমিঃ দু’টি কামান খুব বেশি কিছু নয়। তবে এটা বলাই যায় যে দরকারের সময়ে এই জাহাজে আরও অস্ত্র বহণ করা হবে, কারণ জাহাজগুলি বড় আকারের ডেস্ট্রয়ারের আকৃতির! দুই-দুইটি সুপার পুমা হেলিকপ্টার বহণ করে এই জাহাজগুলি। এই জাহাজ ছাড়াও জাপানের কোস্ট গার্ডে আরও অনেক জাহাজ রয়েছে। নৌবাহিনী থেকে ডিকমিশন করে হাটসুয়ুকি-ক্লাসের (৪,০০০ টন) চারটি ডেস্ট্রয়ার আনা হয়েছে কোস্ট গার্ডে। ঠিক যেমনটি করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ইতালির নৌবাহিনী থেকে ডিকমিশন করে ৪টা মিনার্ভা-ক্লাসের কর্ভেট যেমন মিসাইল সরিয়ে ওপিভি-তে রূপান্তর করা হয়েছে বাংলাদেশের জন্যে। ১,০০০ টন থেকে ৩,৫০০ টনের বেশকিছু জাহাজ রয়েছে তাদের। ১৩০ টন থেকে ৫০০ টনের প্যাট্রোল ভেসেলও রয়েছে অনেকগুলি। এছাড়াও রয়েছে ১৫ মিটার থেকে ৩৫ মিটারের অনেক প্যাট্রোল বোট। ট্রেনিং, ফায়ার-ফাইটিং, সার্ভে, লাইট-হাউস টেন্ডার, ইত্যাদি জাহাজও রয়েছে বেশকিছু। মোটকথা এ আরেক নৌবাহিনী।
গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট নজিব রাজাকের টোকিও ভ্রমণের সময় শিনজো আবে মালয়েশিয়াকে জাপানের কোস্ট গার্ড থেকে দু’টি প্যাট্রোল বোট দেবার ঘোষণা দেন। ‘ওযিকা-ক্লাস’এর একটি জাহাজ গত জানুয়ারীতে মালয়েশিয়াতে এসে পৌঁছেছে। গত অক্টোবরে মালয়েশিয়া প্রথমবারের মতো চীন থেকে ৪টি যুদ্ধজাহাজ কেনার ঘোষণা দেয়, যেখানে মালয়েশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রায় সকল জিনিসই পশ্চিমা ডিজাইনের। এই ঘটনাতেও নজিব রাজাকের চীনের দিকে ঝোঁকার আভাস পাওয়া গেলেও তিনিও কিন্তু জাপান থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেননি; ব্যালান্স করে চলেছেন। মোটকথা, চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। চীনকে সকলেই বন্ধু হিসেবে পাশে চাইছে; বৈরিতা চাইছে না। আবার একইসাথে কোন একটি রাষ্ট্রের কোলের উপরেও কেউ বসে পড়তে চাইছেন না, যা কিনা রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির লক্ষণ। এক্ষেত্রে জাপানের নৌসক্ষমতা একটি বড় ভূমিকা রাখছে।



জাপানের সামরিক বাণিজ্যের শুরু

২০১৬-এর অগাস্টে ফিলিপাইনের জন্যে জাপানে তৈরি করা প্রথম কোস্ট গার্ড জাহাজটি ফিলিপাইনে এসে পৌঁছায়। ৪৪ মিটার লম্বা মোট ১০টি জাহাজ জাপান বিক্রি করছে ফিলিপাইনের কাছে। এর জন্যে সহজ শর্তে ১৫৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে জাপান। এর উপরে গত সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাথে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের সাক্ষাতে জাপান ফিলিপাইনকে ৯০ মিটার লম্বা দু’টি বড় জাহাজ দেবার অঙ্গীকার করে। দুতার্তে সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং-এর দিকে ঝুঁকলেও জাপানের সাথে সম্পর্ক উষ্ণ রেখে চলেছেন। গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট নজিব রাজাকের টোকিও ভ্রমণের সময় শিনজো আবে মালয়েশিয়াকে জাপানের কোস্ট গার্ড থেকে দু’টি প্যাট্রোল বোট দেবার ঘোষণা দেন। ‘ওযিকা-ক্লাস’এর একটি জাহাজ গত জানুয়ারীতে মালয়েশিয়াতে এসে পৌঁছেছে। গত অক্টোবরে মালয়েশিয়া প্রথমবারের মতো চীন থেকে ৪টি যুদ্ধজাহাজ কেনার ঘোষণা দেয়, যেখানে মালয়েশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রায় সকল জিনিসই পশ্চিমা ডিজাইনের। এই ঘটনাতেও নজিব রাজাকের চীনের দিকে ঝোঁকার আভাস পাওয়া গেলেও তিনিও কিন্তু জাপান থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেননি; ব্যালান্স করে চলেছেন। মোটকথা, চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। চীনকে সকলেই বন্ধু হিসেবে পাশে চাইছে; বৈরিতা চাইছে না। আবার একইসাথে কোন একটি রাষ্ট্রের কোলের উপরেও কেউ বসে পড়তে চাইছেন না, যা কিনা রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির লক্ষণ। এক্ষেত্রে জাপানের নৌসক্ষমতা একটি বড় ভূমিকা রাখছে।

জাপানের রাজনৈতিক লক্ষ্যে পরিবর্তন


কিছুদিন আগ পর্যন্ত জাপানকে সবাই শুধুমাত্র অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেই দেখতো; রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নয়। রাজনীতির কথা বলতে গেলেই সামরিক শক্তির বিষয়টি এসে যায়। শিনজো আবের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাপানের প্রভাবশালী মহল চাইছেন সামরিক দিক থেকে জাপানের যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরশীলতা কমাতে। উত্তর কোরিয়ার ছুতো ধরে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ান উপদ্বীপ এবং জাপানে তার সামরিক শক্তি মোতায়েন রাখছে এবং তা দিয়ে চীনকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এভাবে চীন-জাপান ব্যালান্সে থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে। তবে ভারত মহাসাগরে জাপানি ম্যারিটাইম রুটগুলির নিরাপত্তায় জাপানি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিতই যাতায়াত করছে; সেখানে ব্যালান্স করছে চীনকে। সোমালিয়ার উপকূলের কাছাকাছি জাপানের যুদ্ধজাহাজ জলদস্যুতা-বিরোধী টহল দিচ্ছে কয়েক বছর ধরে। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্ডেব প্রণালীতে অবস্থিত জিবুতিতে জাপান ছোটখাটো একটি সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে, যা কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রথম। দু’টি পি-৩ ম্যারিটাইম প্যাট্রোল বিমান ভারত মহাসাগরে টহল দেয় সেখান থেকে। জাপানের সামরিক শক্তি অনেক সাগরেই দেখা যাচ্ছে, কারণ জাপান তার প্যাসিফিস্ট সংবিধান থেকে বের হবার বার্তা দিয়েছে। জাপান তার অর্থনৈতিক কার্ডের সাথে সামরিক কার্ডটিও খেলতে চাইছে ধীরে ধীরে। চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে যে লাভ নেই, সেটা জাপানের ওয়াকিবহাল মহল বুঝতে পারছেন। মালয়েশিয়া-ফিলিপাইনকে সামরিক সহায়তা প্রদান এই নীতিরই অংশ।
ভারত মহাসাগর পাহাড়া দিতে ভারতের কাছে জাপান ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারে ১২টি ‘ইউএস-২’ উভচর ম্যারিটাইম প্যাট্রোল বিমান বিক্রি করছে। জাপান বুঝতে পারছে যে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভূরাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উপরেই নির্ভর করে থাকতে হবে। তাই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে জাপান। এরই অংশ হিসেবে সামরিক বাণিজ্যের অবতারণা।


সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক শক্তিকে ব্যালান্স করাটা জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে কাজ করেছে; কারণ এই সমুদ্রপথেই জাপানের বেশিরভাগ বাণিজ্য হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে ভিয়েতনামকে দু’টি প্যাট্রোল বোট দেবার পরে এবছরের জানুয়ারী মাসে জাপান ৩৩৮ মিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণে আরও ৬টি প্যাট্রোল বোট সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছর জাপান শ্রীলংকাকেও ১৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে দু’টি ৩০ মিটার লম্বা প্যাট্রোল বোট কেনার জন্যে। শুধু প্যাট্রোল বোট নয়, জাপান তার এয়ার ইন্ডেপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) প্রযুক্তির সাবমেরিন অস্ট্রেলিয়ার কাছে অফার করেছিল (যদিও অস্ট্রেলিয়া ফ্রেঞ্চ সাবমেরিনের দিকে গিয়েছে)। ভারত মহাসাগর পাহাড়া দিতে ভারতের কাছে জাপান ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারে ১২টি ‘ইউএস-২’ উভচর ম্যারিটাইম প্যাট্রোল বিমান বিক্রি করছে।

বাংলাদেশে জাপান

জাপান বাংলাদেশের স্বীকৃত উন্নয়ন সহযোগী। এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জাপানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মার্কিনীদের “বাস্কেট কেইস”-তকমা মুছে ফেলে বাংলাদেশ যখন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হোলি আর্টিসানের ঘটনাটি ঘটলো – জাপানিদের টার্গেট করে। উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে জাপানকে সরানো। কিছুদিনের জন্যে তারা সেক্ষেত্রে সফলও হয়েছিল, যখন জাপানি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রজেক্ট থেমে গিয়েছিল। তবে জাপানিরা এই ষড়যন্ত্রের মর্ম বুঝতে পেরেছে বলেই তারা বাংলাদেশের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাপানের জানার কথা যে ভারত মহাসাগরে জাপানি স্বার্থকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশের বিকল্প নেই। একটি দুর্বল বাংলাদেশই কেবল নড়বড়ে হয়ে সকলকে বিচলিত করতে পারে। একুশ শতকে এসে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের পথে জাপানকে সাথে চাইবে। জাপানের রাজনৈতিক নীতির পরিবর্তন এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে সহযোগিতার আরেকটি দুয়ার উন্মোচন করবে। এশিয়ার অনান্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও জাপানের নৌশক্তি তৈরির অভিজ্ঞতা থেকে সুবিধা নিতে পারে। জাপান তার বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলির ম্যারিটাইম সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাপান থেকে ২৪টি ছোট বোট সংগ্রহের পথে রয়েছে। তবে এই সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেয়া যায়। এয়ার-ডিফেন্স রাডার, মিসাইল-সহ জাপানের বেশকিছু সামরিক প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের উপরে নির্ভরশীল, যেগুলি হয়তো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে কোস্ট গার্ডের জন্যে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম জাপান সরবরাহ করলে সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির উপরে নির্ভরশীল হবার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে জাকার্তায় আইওআরএ শীর্ষ বৈঠক, ঢাকায় ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের কনফারেন্স, কসোভোকে স্বীকৃতি, চীনা প্রেসিডেন্ট এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে যে বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন শক্তির আবির্ভাব হতে চলেছে। আর দেশের অভ্যন্তরে সকল ধরনের Subversion নস্যাৎ করে দিয়ে বাংলাদেশ জানান দিয়েছে যে এই রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। আর একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বিশ্বে অনেক বন্ধু পাবে; সেটাই স্বাভাবিক। শক্তিশালীদের জন্যে অনেক বন্ধু থাকে; দুর্বলের জন্যে থাকে প্রভু। বাংলাদেশ এখন নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে দুনিয়ার যেকারুর সাথেই বন্ধুত্ব করতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের মাধ্যমে এটাই পরিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী চীনও এই বার্তাটাই পাবে। সাথেসাথে জাপানের কাছেও বার্তা যাবে যে বাংলাদেশের দুয়ার যে কারুর জন্যেই উন্মুক্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সাম্রাজ্যবাদীদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকে।