Showing posts with label Vaccine War. Show all posts
Showing posts with label Vaccine War. Show all posts

Sunday, 23 May 2021

ভারতে করোনা সংক্রমণের ভূরাজনৈতিক ফলাফল

২৪শে মে ২০২১

ভারতের করোনা মহামারি একদিকে যেমন দেশটার দুর্বল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন সরবরাহের অপ্রতুলতা সৃষ্টি করে চীনের ভ্যাকসিন কূটনীতির জন্যে জায়গা করে দিচ্ছে। দুর্বল ভারতকে দিয়ে চীনকে ব্যালান্স করতে যুক্তরাষ্ট্র যে হিমসিম খাবে, তা বলাই বাহুল্য। এতে কৌশলগত দিক থেকে ওয়াশিংটনের উপর দিল্লীর নির্ভরশীলতা তৈরি হলেও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুর সবচাইতে কঠিন সময়ে যথেষ্ট সহায়তা দিতে না পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জকে কঠিনতর করবে।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভারতের ভয়াবহ অবস্থার চিত্র যখন প্রতিফলিত হচ্ছে বিশ্বমিডিয়াতে, তখন কেউ কেউ এই সংক্রমণের ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। ‘ইউরেশিয়া গ্রুপ’এর ‘জি জিরো মিডিয়া’তে মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার ভারতের মহামারির ব্যাপারে যতটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ব্রাজিলের ব্যাপারে তার ধারেকাছেও নয়। এর কারণ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্বের দিকে তাকাতে হবে।

২০২০এর অগাস্টে ভারতের সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয় যে, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ২৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল; যা কিনা বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মাঝে সর্বোচ্চ। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এর এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি কমেছিল সাড়ে ৯ শতাংশ; আরা জাপানের কমেছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে ভারত সরকার সর্বপ্রথম জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশ শুরু করার পর থেকে এটা অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ধ্বস। লকডাউনের কারণে লাখ লাখ দিনমজুর কাজের অভাবে শহরগুলি ছেড়ে পালিয়েছে। এই মানুষগুলি অনেকক্ষেত্রেই ভারতের জিডিপির পরিসংখ্যানের বাইরে রয়েছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিথারামান গত অগাস্টে ভারতের অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্যে করোনাভাইরাসকে দায়ী করে বলেন যে, এটা সৃষ্টিকর্তার কারণে হয়েছে। তবে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ভারতের অর্থনীতি মহামারির আরও আগে থেকেই ধুঁকে ধুঁকে চলছিল। ২০১৯এর অগাস্টে বলা হয়েছিল যে, দেশটাতে গাড়ি বিক্রি ৩২ শতাংশ কমেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৪ সাল নাগাদ দেশটার অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন, সেই স্বপ্ন এখন বেশ দূরবর্তীই মনে হচ্ছে।

মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’এর এক লেখায় ‘জন্স হপকিন্স স্কুল অব এডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’এর প্রফেসর ড্যানিয়েল মার্কি ভারতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কৌশলগত ফলাফল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ২০২০ সালের শেষের দিকে এবং ২০২১এর শুরুতে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছিলেন যে, ভারত খুব সম্ভবতঃ করোনার সবচাইতে খারাপটা দেখে ফেলেছে। এখন ভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এই আশা পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। বাইডেন প্রশাসন তাদের চীনকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলে ভারতের সাথে সহযোগিতাকে মূল স্তম্ভগুলির একটা হিসেবে দেখছে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে দিয়ে চীনকে ব্যালান্স করতে চাইছে, তাই ভারতের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তার ভিত্তি মানবিক নয়; কৌশলগত। হিমালয়ের পাদদেশে চীনের সাথে উত্তেজনা যখন সমাধানহীন অবস্থায় রয়ে গেছে, তখন ভারতে করোনার মারাত্মক সংক্রমণের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। প্রফেসর মার্কি মনে করছেন যে, ভারতের দুর্বল মুহুর্তেকে চীন যদি ব্যবহার করতে চায়, তাহলে একইসাথে কয়েকটা চ্যালেঞ্জের চাপে পড়ে নতুন দিল্লীতে নীতিগত ভুল হবার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আর এসময়েই যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ ভারতকে নীতিগত সহায়তা দিয়ে কৌশলগত দিক থেকে শক্তিশালী করা।

বার্তাসংস্থা ‘ব্লুমবার্গ’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, করোনার ভারে নুয়ে পড়ে ভারত যখন তার ভ্যাকসিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রাখতে হিমসিম খাচ্ছে, তখন সারা বিশ্ব চীনের ভ্যাকসিনের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের ‘সিনোফার্ম গ্রুপ’এর ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেবার পর বিশ্বব্যাপী চীনের ভ্যাকসিনের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন অনেকেই। এছাড়াও চীনের ‘সিনোভ্যাক বায়োটেক’এর ভ্যাকসিনও খুব শিগগিরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পেতে পারে। ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’এর সিনিয়র ফেলো ইয়ানঝং হুয়াং বলছেন যে, চীন শুধুমাত্র ভ্যাকসিনের সবচাইতে বড় রপ্তানিকারকই হতে যাচ্ছে না, কিছু দেশের জন্যে চীনের ভ্যাকসিন ছাড়া কোন পথই খোলা থাকছে না।

এমতাবস্থায় চীনের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিজের জন্যে ক্রয় করা ‘এসট্রাজেনেকা’র ৬ কোটি ডোজ অন্য দেশগুলিকে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবং একইসাথে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘মডার্না’, ‘ফাইজার’ এবং ‘জনসন এন্ড জনসন’এর ভ্যাকসিন উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির জন্যে জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে অন্যান্য দেশের ভ্যাকসিন ফ্যাক্টরিগুলিকে কার্যকর করার জন্যে মার্কিন কোম্পানিগুলির ডেভেলপ করা ভ্যাকসিনের উপর থেকে কপিরাইট স্বত্ব উঠিয়ে নেবার ব্যাপারে কথা বললেও এখনও সেব্যাপারে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাইডেন সরকার। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি করলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ভ্যাকসিন দেবার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃপণতা দৃষ্টিকটু। রপ্তানি বন্ধ করার আগ পর্যন্ত ভারত পৃথিবীর প্রায় এক’শ দেশে ব্রিটেনের অক্সফোর্ডের ডেভেলপ করা ‘এসট্রাজেনেকা’র ৬ কোটি ৭০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন রপ্তানি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গড়ে ওঠা ‘কোভ্যাক্স’ চেষ্টার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বিশ্বের গরীব দেশগুলিতে পৌঁছেছে, যা কিনা যুক্তরাষ্ট্রের নিজের জন্যে তৈরি ২৪ কোটি ভ্যাকসিনের তুলনায় কিছুই নয়। ‘কোভ্যাক্স’ ভারতের ‘সেরাম ইন্সটিটিউট’এর ফ্যাক্টরির উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল।

পশ্চিমা গবেষকেরা বলছেন যে, চীনের ভ্যাকসিনের কর্মক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। হংকংএর ‘সিটি ইউনিভার্সিটি’র এসোসিয়েট প্রফেসর নিকোলাস থমাসএর মতে, চীনারা মধ্যম মেয়াদে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে পারবে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলি যদি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা চীনা ভ্যাকসিনের দুর্বল কর্মক্ষমতাকে ব্যবহার করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে পারবে। অপরদিকে বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে চীনারা সকল চেষ্টাই করছে। চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ‘গ্লোবাল টাইমস’এর এক লেখায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলা হয় যে, ভারতের সবচাইতে খারাপ সময়ে ওয়াশিংটন ভারতকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে। পশ্চিমারা ভারতের কাছাকাছি গিয়েছে ভূরাজনৈতিক স্বার্থের জন্যে; এই সম্পর্ক ঠুনকো এবং অগভীর।

ভারতের করোনা মহামারি একদিকে যেমন দেশটার দুর্বল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন সরবরাহের অপ্রতুলতা সৃষ্টি করে চীনের ভ্যাকসিন কূটনীতির জন্যে জায়গা করে দিচ্ছে। দুর্বল ভারতকে দিয়ে চীনকে ব্যালান্স করতে যুক্তরাষ্ট্র যে হিমসিম খাবে, তা বলাই বাহুল্য। এতে কৌশলগত দিক থেকে ওয়াশিংটনের উপর দিল্লীর নির্ভরশীলতা তৈরি হলেও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুর সবচাইতে কঠিন সময়ে যথেষ্ট সহায়তা দিতে না পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জকে কঠিনতর করবে।

Friday, 12 March 2021

ভারতকে আবারও নিজ ছায়াতলে আনতে চাইছে ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’

১২ই মার্চ ২০২১
চীন এবং রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ‘ভীতি’কে ব্যবহার করেই ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে। ঔপনিবেশিক সময় থেকেই ভারত এবং চীনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্রিটেনের কাছে কখনোই কমেনি। একারণেই ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ চীন এবং ভারত উভয়কেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। ইইউ থেকে বের হয়ে যাবার সাথেসাথেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ব্রিটেনের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হলেও ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ চিন্তার বাস্তবায়ন অন্বেষণ করা থেকে তারা যে এক চুলও নড়েনি, তা পরিষ্কার। 


সারা বিশ্বে যখন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন শক্তিশালী দেশগুলি ভ্যাকসিনকে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির হাতিহার হিসেবে দেখছে। পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকাতে যখন পশ্চিমা দেশগুলি ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে হিমসিম খাচ্ছে, তখন চীন এবং রাশিয়া এই সুযোগে প্রভাব বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক পশ্চিমা চিন্তাবিদেরা। তবে ব্রিটেনের ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার এক লেখায় বলা হচ্ছে যে, ঠান্ডা যুদ্ধের মতোই রাশিয়া এবং চীনের ভীতিকে জিইয়ে রেখে পশ্চিমারা শক্তিশালী একটা প্রত্যুত্তর দিতে চাইছে। নিজেদের মেডিক্যাল গর্বকে ধরে রাখতে পশ্চিমা দেশগুলিকে দ্রুত কাজ করতে হবে। তবে একইসাথে বলা হচ্ছে যে, ব্রিটেনের উচিৎ তাদের ভ্যাকসিনের সফলতাকে ভূরাজনৈতিক সফলতাতে রূপান্তরিত করা। উদাহরণস্বরূপ বলা হচ্ছে যে, ভারতের সাথে ব্রিটেনের একটা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যকে ১’শ ৪০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারে, যা বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলারের মতো।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী ‘স্পেকট্যাটর’ ম্যাগাজিনের এক লেখায় বলা হচ্ছে যে, ঠান্ডা যুদ্ধ যখন তুঙ্গে ছিল, তখন বিশ্বের প্রায় শ’খানেক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নাম লেখায়; যারা যুক্তরাষ্ট্র বা সোভিয়েত ইউনিয়ন, কারুর পক্ষেই যাবার পক্ষপাতি ছিল না। তখন উভয় সুপারপাওয়ারই চেষ্টা করেছে এই দেশগুলিকে নিজেদের বলয়ে নিয়ে আসতে; বর্তমানেও সেটাই হচ্ছে। ঠান্ডা যুদ্ধের পর ‘গ্রেট পাওয়ার’ প্রতিযোগিতায় চীন এবং রাশিয়াও চাইছে মাঝামাঝি থাকা এই দেশগুলিকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসে। চীন এবং রাশিয়ার ভ্যাকসিন কূটনীতি এরই অংশ। অপরদিকে ব্রিটেন আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাকসিনের প্রসার ঘটাতে ভারতকে ব্যবহার করছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ভারতের ‘সেরাম ইন্সটিটিউট’ প্রকৃতপক্ষে ব্রিটেনের অক্সফোর্ডের ডেভেলপ করা ভ্যাকসিনই তৈরি করছে। ব্রিটেন যখন নিজের তৈরি ভ্যাকসিন দিয়ে নিজস্ব জনগণকে রক্ষা করছে, তখন ব্রিটিশ ‘আশীর্বাদে’ ভারত দুনিয়াব্যাপী ভ্যাকসিন ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে লেখায় আরও বলা হচ্ছে যে, আসন্ন ‘ডি১০’ শীর্ষ বৈঠকে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে যে, পশ্চিমাদের বন্ধুত্ব চীনের বন্ধুত্বের চাইতেও বেশি দামি।

‘ডি১০’ হলো অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সাতটা দেশ ‘জি৭’এর একটা সম্প্রসারণ। ‘জি৭’এর দেশগুলি হলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপান। এর সাথে ‘ডি১০’এর অধীনে যুক্ত করা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতকে। ব্রিটেন চাইছে ২০২১ সালে ‘জি৭’ শীর্ষ বৈঠককে ‘ডি১০’ বৈঠকে রূপান্তরিত করতে। অনেকেই বলা শুরু করেছেন যে, ‘জি৭’ একটা পুরোনো চিন্তা; তাই এটাকে ‘ডি১০’এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত করা উচিৎ। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’এর এক লেখায় বলা হচ্ছে যে, ‘ডি১০’এর চিন্তাটা নতুন নয়। ২০০৮ সালে মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’এর এশ জৈন এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন পলিসি প্ল্যানিং ডিরেক্টর ডেভিড গর্ডন ‘ডি১০’এর ব্যাপারে কথা বলা শুরু করেন। তারা বলছিলেন যে, এখন এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিমা লিবারাল আদর্শের দেশগুলি নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারছে না। এমতাবস্থায় এই দেশগুলির উচিৎ একত্রে বসে কৌশল নির্ধারণ করা। এশ জৈন বর্তমানে ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’এ ‘ডি১০ স্ট্র্যাটেজি ফোরাম’ দেখাশুনা করছেন; যার উদ্দেশ্য হলো এই দেশগুলির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকদের একত্রে নিয়ে এসে নীতি বিষয়ক কথাবার্তা চালিয়ে নেয়া।

‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনের এক লেখায় মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’এর ফেলো এরিক ব্র্যাটেনবার্গ এবং ব্রিটিশ সাংবাদিক বেন জুডাহ বলছেন যে, এখন সময় এসেছে ‘জি৭’কে পিছনে ফেলে ‘ডি১০’কে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। তারা বলছেন যে, ‘ডি১০’ কোন চীন বিরোধী সংস্থা নয়। বরং এটা হলো পশ্চিমা গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি হুমকিস্বরূপ দু’টা বিশেষ সমস্যাকে সমাধানের একটা উপায়। এর মাঝে একটা হলো ‘ফাইভ জি’ বা পঞ্চম জেনারেশনের প্রযুক্তি; আরেকটা হলো অতি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সাপ্লাই চেইন। এই উভয় সমস্যাই পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলির কেউ একা সমাধান করতে পারবে না। অপরপক্ষে ‘ডি১০’এর মাধ্যমে এই সমস্যাগুলিকে সমাধানে বেশ দ্রুত কাজ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ট্রান্স আটলান্টিক এবং ট্রান্স প্যাসিফিকের গণতান্ত্রিক দেশগুলিকে একটা কাঠামোর মাঝে এনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকে কেন্দ্র করে দ্রুত কর্মমুখী একটা সমাধানে দিকে এগুনোর মাধ্যমে একাধারে যেমন সংস্থাটাকে একটা আলোচনা সভা বানিয়ে ফেলা থেকে বাঁচা যাবে, তেমনি চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র ব্যবস্থা নেয়াকেও কঠিন করে ফেলা যাবে। তারা বলছেন যে, গণতান্ত্রিক দেশগুলির মাঝে সেতু তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের গুরুত্ব যথেষ্ট। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ১৯৪৯ সালে ন্যাটো তৈরির সময় ব্রিটিশ সামরিক অফিসার হেস্টিংস ইসমে বলেছিলেন যে, ন্যাটোর দরকার রয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাইরে রাখতে, যুক্তরাষ্ট্রকে ভিতরে রাখতে, এবং জার্মানিকে দমিয়ে রাখতে। তেমনি ব্র্যাটেনবার্গ এবং জুডাহ বলছেন যে, ‘ডি১০’এর দরকার রয়েছে চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ভারতে কাছে রাখতে, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ় রাখতে। তাদের কথায়, ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ চিন্তাটা এখনও একটা কঙ্কাল; লন্ডনের জন্যে ‘ডি১০’ হলো এই কংকালের উপর পেশী যুক্ত করার একটা সোনালী সুযোগ।

চীন এবং রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ‘ভীতি’কে ব্যবহার করেই ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে। ঔপনিবেশিক সময় থেকেই ভারত এবং চীনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্রিটেনের কাছে কখনোই কমেনি। একারণেই ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ চীন এবং ভারত উভয়কেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে ব্রেক্সিটের পর ভারত এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে ব্রিটেন। ‘ফাইভ জি’ প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেইনকে আলোচনায় এনে ব্রিটেন চীনের বিকল্প তৈরি নয়, বরং চীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। অপরপক্ষে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের উৎপাদনে ভারতকে অংশীদার করে এবং ‘ডি১০’ গঠনের মাধ্যমে ভারতকে একটা বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের অংশ করে নিয়ে ব্রিটেন ভারতকে আবারও নিজের ছায়াতলে আনতে চাইছে। একইসাথে ব্রিটেন চাইছে চীনকে নিয়ন্ত্রণের খেলায় যুক্তরাষ্ট্র যেন একচ্ছত্রভাবে সিদ্ধান্ত না নিতে পারে। ইইউ থেকে বের হয়ে যাবার সাথেসাথেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ব্রিটেনের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হলেও ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ চিন্তার বাস্তবায়ন অন্বেষণ করা থেকে তারা যে এক চুলও নড়েনি, তা পরিষ্কার।

Saturday, 22 August 2020

ভ্যাকসিন যুদ্ধ ... ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বব্যবস্থার উপর আরেক আঘাত

২২শে অগাস্ট ২০২০

কোন দেশ কার কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনবে, সেটা নিয়েও শুরু হয়েছে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলির মাঝে চলছে মুনাফার প্রতিযোগিতা। শীঘ্রই গরীব দেশগুলিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়ে শক্তিশালী দেশগুলির মাঝে শুরু হবে স্থূল প্রতিযোগিতা। বৈদেশিক আর্থিক সহায়তা এবং পশ্চিমা দেশে ভ্রমণের শর্ত হিসেবে ভ্যাকসিনের উৎসকে যাচাই করা হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। সামনের মাসগুলিতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব এবং মুনাফাবৃত্তির এই প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা করোনা আক্রান্ত ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে।



করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ফাইনাল হবার আগেই কয়েকটা দেশ কোটি কোটি ডোজের ভ্যাকসিনের অর্ডার করে ফেলেছে। ‘ডয়েচে ভেলে’ বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং আরও কিছু পশ্চিমা দেশ আগেভাগেই বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে ভ্যাকসিনের অর্ডার করে ফেলেছে, যাতে করে এবছর শেষের আগেই তাদের হাতে একটা কার্যকর ভ্যাকসিন থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ১০ বিলিয়ন ডলার খরচে প্রায় ৭০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের অর্ডার করেছে। রাশিয়া এবং চীনও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে পশ্চিমা বিশ্বের বিকল্প নিয়ে হাজির হবার যারপরনাই চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখন এই ‘ভ্যাকসিন যুদ্ধে’র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা বলছেন অনেকেই।

‘জাপান টাইমস’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ১৯৫৭ সালে প্রথম রুশ মহাকাশ স্যাটেলাইট ‘স্পুতনিক’ যেমন মহাকাশ প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছিল, এখন ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন বাজারে আনার পিছনেও তেমনই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার ভ্যাকসিনের নাম ‘স্পুতনিক ৫’ রাখার নামকরণের স্বার্থকতা হয়তো সেখানেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে যে, ফলাও করে ভ্যাকসিনের ঘোষণা দেবার পিছনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বার্থ রয়েছে যথেষ্টই। দেশটার অর্থনীতি ধুঁকে ধুঁকে চলছে, আর ভাইরাসের আগমণের পর দেশের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ক্রমান্বয়ে নিম্নগামী জনসমর্থনের লাগাম টানতে এই ভ্যাকসিন পুতিনকে সহায়তা করতে পারে। আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটা রাশিয়ার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। রাশিয়ার মতো চীনও প্রথম ভ্যাকসিন বাজারে আনতে ব্যাপক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। একটা চীনা সরকারি কোম্পানি জুলাই মাসেই তার শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ডোজ দিয়েছে। ভ্যাকসিনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পুতিন নিজেও তার কন্যাকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নভেম্বরের নির্বাচনের আগে আগেই ভ্যাকসিন যোগার করাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন।

রাশিয়া এবং চীনের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে পশ্চিমা গবেষকেরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন যে, ভ্যাকসিন যদি এখন কাজও করে, সেটা কতদিন কার্যক্ষম থাকবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে সময় লাগবে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ডক্টর মাইকেল হেড বলছেন যে, ভ্যাকসিন কাজ করবে কি করবে না, এই মুহুর্তে এটা নিশ্চিত করে বলাটা বেশ কঠিন। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্তিশালী ইতিহাস থাকায় অনেকেই রাশিয়ার ভ্যাকসিনের দাবিকে এড়িয়ে যেতেও পারছেন না। মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’এর ডিসটিনগুইশড ফেলো ড্যানিয়েল ফ্রীড বলছেন যে, প্রথম ভ্যাকসিন যে দেশ বাজারে আনতে পারবে, সে বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট সন্মানজনক একটা অবস্থান পাবে।

শক্তিশালী দেশগুলি ভ্যাকসিনের পিছনে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ‘রয়টার্স’ বলছে যে, ব্রিটিশ সরকার তার ৬ কোটি ৬০ লক্ষ জনগণের জন্যে মোট ৬ প্রকারের ৩৪ কোটি ডোজের ভ্যাকসিনের অর্ডার করেছে। ব্রিটিশ ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের প্রধান কেইট বিংহ্যাম বলছেন যে, ব্রিটেন বিভিন্ন উৎস থেকে তার ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। ভ্যাকসিনের প্রথম দিককার পরীক্ষামূলক ফলাফলগুলির দিকে ব্রিটেন দৃষ্টি রাখবে, যাতে বোঝা যায় যে, কোন ভ্যাকসিনটা ঠিকমতো কাজ করছে। ‘জনসন এন্ড জনসন’ কোম্পানি ব্রিটেনকে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে; সফল হলে এর সাথে আরও ২ কোটি ২০ লক্ষ ডোজ যোগ হবে। এর সাথে রয়েছে ‘নোভাভ্যাক্স’ থেকে ৬ কোটি ডোজ। ইউরোপিয়ান কমিশন ঘোষণা দিয়েছে তারা ‘এসট্রা জেনেকা’ কোম্পানির কাছ থেকে ৩০ কোটি ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। একই কোম্পানি ব্রিটেনকে দেবে ১০ কোটি ভ্যাকসিন; আর যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে ৩০ কোটি। জুলাই মাসে ‘বায়ো এনটেক’ এবং ‘ফাইজার’এর যৌথ উদ্যোগের কাছ থেকে ব্রিটেন ৯ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার করে; একই কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ কোটি ডোজ বিক্রি করছে। ‘মার্কেট ওয়াচ’ বলছে, এই প্রতিটা কোম্পানিই অর্থনৈতিক ধ্বসের মাঝেও শেয়ার বাজারে ব্যাপক ভালো করছে। ‘নোভাভ্যাক্স’এর শেয়ার মূল্য মে মাস থেকে প্রায় ৭ গুণ হয়েছে! মার্চ থেকে ‘বায়ো এনটেক’এর শেয়ারমূল্য ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে! এছাড়াও এপ্রিল থেকে ‘ফাইজার’এর মূল্য বেড়েছে ৩৯ শতাংশ; মার্চ থেকে ‘এসট্রা জেনেকা’র মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬ শতাংশ। বহুজাতিক কর্পোরেটগুলি বিলিয়ন ডলারের মুনাফা করে নিচ্ছে; কিন্তু ধনী দেশগুলির জনসংখ্যার কয়েক গুণ ভ্যাকসিন অর্ডার করার উদ্দশ্য আসলে কি?

‘ওয়েলকাম ট্রাস্ট’ হেলথ চ্যারিটির গ্লোবাল পলিসির প্রধান এলেক্স হ্যারিস বলছেন যে, এভাবে ধনী দেশগুলি ভ্যাকসিনের অর্ডার করতে থাকলে গরীব দেশগুলি নিজেদের জন্যে কোন ভ্যাকসিনই পাবে না। ‘ডয়েচে ভেলে’ বলছে যে, গরীব দেশগুলির জন্যে বিনিয়োগ করতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি সর্বদাই কার্পণ্য করেছে। ধনী দেশগুলির কাছে বেশি মূল্যে ভ্যাকসিন বা ঔষধ বিক্রি করতে পারে বলেই তারা কখনো গরীব দেশগুলির দিকে তাকাবার প্রয়োজন মনে করে না।

নভেম্বরের নির্বাচনকে মাথায় রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন যে, নভেম্বরের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভ্যাকসিন চলে আসবে। ব্রিটেনে জনমত তৈরি করা হচ্ছে, যাতে গরীব দেশগুলিতে ব্রিটেন ভ্যাকসিন দেবার মাধ্যমে তার ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। জনসংখ্যার ৫ গুণ ভ্যাকসিন কিনছে ব্রিটেন! রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন চাইছেন ‘স্পুতনিক ৫’ ভ্যাকসিনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা যুদ্ধের ‘স্পুতনিক’ স্যাটেলাইটের মতোই রাশিয়ার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনতে; একারণে নিজের মেয়েকেও পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন দিতে ছাড়েননি তিনি। বিশ্বব্যাপী নিজেদের ডেভেলপ করা ভ্যাকসিন বিক্রির উদ্যোগ হিসেবে ২১শে অগাস্ট চীনারা ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বিক্রির চুক্তি করেছে। কোন দেশ কার কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনবে, সেটা নিয়েও শুরু হয়েছে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলির মাঝে চলছে মুনাফার প্রতিযোগিতা। শীঘ্রই গরীব দেশগুলিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়ে শক্তিশালী দেশগুলির মাঝে শুরু হবে স্থূল প্রতিযোগিতা। বৈদেশিক আর্থিক সহায়তা এবং পশ্চিমা দেশে ভ্রমণের শর্ত হিসেবে ভ্যাকসিনের উৎসকে যাচাই করা হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। সামনের মাসগুলিতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব এবং মুনাফাবৃত্তির এই প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা করোনা আক্রান্ত ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করবে।