Showing posts with label Women's Rights. Show all posts
Showing posts with label Women's Rights. Show all posts

Wednesday, 24 March 2021

পশ্চিমা দুনিয়ায় নারীর অধিকার আদৌ প্রতিষ্ঠিত হবে কি?

২৫শে মার্চ ২০২১
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে নারীবাদী সংস্থাগুলির প্লাকার্ড। দেশের সর্বোচ্চ অফিসে কাজ করাও যে নারী নির্যাতন বন্ধের জন্যে যথেষ্ট নয়, তা অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের ঘটনাই বলছে। আর ব্রাজিলের ঘটনা দেখিয়ে দেয় নারীকে ‘পণ্য সমতুল্য’ করার সংস্কৃতিকে। পশ্চিমা চিন্তায় নারীর অধিকার কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই মূল্যায়িত হয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই হয়েছে সকল কিছুর মাপকাঠি। আইন তৈরির সংস্থা থেকে শুরু করে ফুটবল ক্লাব পর্যন্ত কেউই নারীর সন্মান এবং নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। একুশ শতকেও তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, পশ্চিমা দুনিয়ায় নারীর প্রকৃত সন্মান আদৌ কোনকালে প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা।


গত ২০শে মার্চ তুরস্ক নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গঠিত ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ কনভেনশন’ থেকে বের হয়ে যাবার ঘোষণা দেয়। ‘ইস্তাম্বুল কনভেনশন’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে ২০১১ সালে ৪৫টা দেশ স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত ৩৪টা দেশের পার্লামেন্টে এই চুক্তি আইন হিসেবে পাস হয়েছে; বাকিগুলি আইন পাস করেনি। এসব দেশের মাঝে ব্রিটেন, ইউক্রেন, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি রয়েছে। ২০১১ সালে তুর্কি পার্লামেন্টে আইন হিসেবে চুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ ২০১২ সালের জুনে স্বাক্ষর করলেও ব্রিটেন এখনও তা করেনি। তুর্কি সরকার বলছে যে, এই আইন পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করাকে উৎসাহিত করা ছাড়াও পারিবারিক সহিংসতা এবং বিবাহবিচ্ছেদ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও তুরস্কের সমকামি গোষ্ঠিগুলি এই আইনকে ব্যবহার করে সমাজে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতে এক টুইটার বার্তায় বলেন যে, তুরস্কের পারিবারিক বন্ধনের পুরোনো ঐতিহ্যের মাধ্যমেই নারীর সন্মান নিশ্চিত করা সম্ভব; এর জন্যে বাইরের কাউকে নকল করার দরকার নেই। ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’এর হিউম্যান রাইটস কমিশনার দুনিয়া মিয়াতোভিচ এর প্রত্যুত্তরে বলেন যে, এতে নারীঅধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তুরস্কে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ার এমন এক সময়ে তাদের উচিৎ হবে না কনভেনশন থেকে নাম প্রত্যাহার করা। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে নারীর অধিকার আজকে কতটুকু?

ওশেনিয়া অঞ্চলের উন্নত দেশ অস্ট্রেলয়া থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে। ২২শে মার্চ অস্ট্রেলিয়ার ‘টেন নেটওয়ার্ক’এর এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা গত দুই বছর ধরে দেশটার পার্লামেন্ট অফিসের ভিতর বিভিন্ন যৌন আচরণ করে সেগুলির ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলো। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরদিন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা দেন যে, সেই ব্যক্তিদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা ‘ব্লুমবার্গ’মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পুরো অস্ট্রেলিয়া জুড়ে হাজারো নারী যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। এছাড়াও মরিসন সরকারের এটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান পোর্টারের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকার এই অভিযোগের তদন্ত করতে অস্বীকৃত জানানোতে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এর উপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ উপদেষ্টা ২০১৯ সালে পার্লামেন্ট ভবনের ভিতর ব্রিটানি হিগিন্স নামের একজন জুনিয়র মহিলা উপদেষ্টাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেসময় পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিন্ডা রেইনল্ডসের অফিসে কাজ করা ব্রিটানি হিগিন্সকে বলা হয় তিনি যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ না করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিন্ডা রেইনল্ডস তার অধীনস্ত সেই মহিলা কর্মকর্তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়ে আইনী সমস্যা পড়েন। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য হিগিন্সের কাছে ক্ষমা চান এবং তার বিরুদ্ধে আইনী অভিযোগের ব্যাপারটা গোপনে অর্থিকভাবে দফারফা করেন। শুধু তাই নয়, হিগিন্সকে ধর্ষণের পরের বছর সেই একই ব্যক্তি বেসরকারি সেক্টরে কাজ করার সময় আরেকজন মহিলাকে যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই মহিলা নিপীড়নকারীর সাথে রাতে ডিনার করে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান; যেখানে সেই ঘটনা ঘটে বলে জানান সেই মহিলা। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের সংস্কৃতিতেই ব্যাপক সমস্যা রয়েছে।

আটলান্টিকের ওপাড়ে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ডিভিশনের ফুটবল ক্লাব ‘সামপাইও করেয়া’র একটা বিজ্ঞাপনকে সরিয়ে নেবার নির্দেশ দিয়েছে দেশটার মারানিয়াও প্রদেশের ভোক্তা অধিকার সংস্থা। ২৪শে মার্চের ‘রয়টার্স’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, বিজ্ঞাপনটাতে একজন সংক্ষিপ্ত বসনা নারীর ছবির সাথে ‘ওয়েসিস মোটেল’এর একটা অফারের কথা বলা হয়। এতে বলা হয় যে, ফুটবল ক্লাবের সমর্থকেরা মোটেলে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্টে ‘গোল করতে পারেন’ বা নারীসঙ্গ পেতে পারেন। বিজ্ঞাপনটা প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মাঝেই ভোক্তা অধিকার সংস্থা এটাকে সরিয়ে বিকল্প বিজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দেশ দেয়। একইসাথে তারা বলে যে, নারীদেরকে ‘পণ্য সমতুল্য’ করার জন্যে তাদেরকে আদালতের সামনে হাজির করে ব্যাখ্যা দিতে বলা হবে। তবে ক্লাবটা ১১ ঘন্টার মাঝে বিজ্ঞাপনটা না সরিয়ে বরং আরেকটা ছবি পোস্ট করে, যেখানে লেখা ছিল যে, ‘একজন মহিলা সেখানেই থাকতে পারেন, যেখানে তিনি থাকতে চান’। প্রকৃতপক্ষে এই দ্বন্দ্ব বিজ্ঞাপনের ভাষা নিয়ে। কারণ একদিকে ‘ওয়েসিস মোটেল’এ নারীসঙ্গ বেচাবিক্রি ব্রাজিলে যেমন অবৈধ নয়, তেমনি স্বল্পবসনা নারীদের ছবি বিজ্ঞাপনে ব্যবহারও নিষেধ নয়। ব্রাজিলে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত কার্নিভাল অনুষ্ঠানে এর চাইতে আরও কম কাপড়ে প্রায় নগ্ন অবস্থায় নারীদের ‘সাম্বা’ নৃত্য করতে দেখা যায় রাজধানী শহরের রাস্তায়; যা উপভোগ করে ছেলে বুড়ো শিশু সকলে; এবং মূলতঃ পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আসা বহু পর্যটক। এই অনুষ্ঠান ব্রাজিলের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব রাখে। ‘সামপাইও করেয়া’র বিজ্ঞাপনে যে নারীর ছবি ব্যবহার করা হয়, তিনি মূলতঃ ২০১৫ সালে ক্লাবের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম হিসেবেই সেই নারীকে স্বল্পবসনা হয়ে ছবি তুলতে হয়েছিল। ক্লাব সেই ছবিকে পুঁজি করেই ব্যবসা চালাচ্ছে। ব্রাজিলে ফুটবল ক্লাব ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার এহেন সুন্দরী প্রতিযোগিতা চলে সারা বছর জুড়ে; যেখানে নারীদেরকে অতিরিক্ত স্বল্পবসনা হয়ে সকলের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থ উপার্জন করে এবং সোশাল মিডিয়াতে বহু অনুসারী পায়। অনেক প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরুষদের ম্যাগাজিনে নগ্ন হয়ে মডেলিং করার ‘সুযোগ’ পায়। নারীদের সৌন্দর্যবর্ধনকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলে বিশাল অর্থনৈতিক কার্মকান্ডও চলে। এতকিছুর পরেও সেদেশের বিজ্ঞাপনে নারীদেরকে ‘পণ্য সমতুল্য’ করার জন্যে যে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করার হয়েছে, তা অন্তসারশূণ্যই বটে।

দেশের সর্বোচ্চ অফিসে কাজ করাও যে নারী নির্যাতন বন্ধের জন্যে যথেষ্ট নয়, তা অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের ঘটনাই বলছে। আর ব্রাজিলের ঘটনা দেখিয়ে দেয় নারীকে ‘পণ্য সমতুল্য’ করার সংস্কৃতিকে। পশ্চিমা চিন্তায় নারীর অধিকার কেবল অর্থনৈতিক দিক থেকেই মূল্যায়িত হয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই হয়েছে সকল কিছুর মাপকাঠি। আইন তৈরির সংস্থা থেকে শুরু করে ফুটবল ক্লাব পর্যন্ত কেউই নারীর সন্মান এবং নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। একুশ শতকেও তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, পশ্চিমা দুনিয়ায় নারীর প্রকৃত সন্মান আদৌ কোনকালে প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা।

Saturday, 4 March 2017

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশে কি চাচ্ছে?

০৫ মার্চ ২০১৭
 
আপাততঃ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর রেডিনেস এবং লজিস্টিক্যাল কন্ডিশন যে পর্যায়ে আছে, তাতে নতুন কোন ফ্রন্টলাইন খোলাটা তাদের জন্যে কতোটা বাস্তবসম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বিতর্ক করাই যায়। তথাপি তারা ভারতকে “কিছু করা”র জন্যে অনুপ্রাণিত করতে পারে। রাষ্ট্রকে দুর্বল করার Subversion-এর পদ্ধতিগুলি ভারত (যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে) কাজে লাগাতে চাইবে। যেসব অস্ত্রগুলি তারা কাজে লাগাতে চাইবে, সেগুলি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঐ প্রতিবেদনে পরোক্ষভাবে উল্লেখ রয়েছে- তথাকথিত জঙ্গী কর্মকান্ড, বিদেশী-‘মুক্তমনা’-মানবাধিকার কর্মী-সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, শ্রমিক অসন্তোষ, গণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে অরাজকতা, ইত্যাদি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০১৬ সালের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে পরোক্ষ হুমকি দেবার পর এ নিয়ে কিছু আলোচনা বাঞ্ছনীয় হয়ে উঠেছে। হুমকি হিসেবে এবার আইসিস-এর স্থলে এসেছে আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস-এর নাম। নতুন নতুন যা কিছুই উদ্ভাবন করা হোক না কেন, মূল লক্ষ্য একটাই থাকবে – ইসলামকে অসহিষ্ণু জঙ্গী বিশ্বাস হিসেবে প্রমাণ করা। ইসলামের নামে যতো সব খারাপ কাজের সূচনা করে ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরাবার এই ঘৃণ্য চেষ্টা এখন এতোটাই নগ্নভাবে সামনে চলে আসছে যে তা এখন একজন রিক্সাওয়ালা, চায়ের দোকানদার বা সিএনজি চালকও জানে। ভারতের সাথে করা LEMOA চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের মাটিতে সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারে। [১] তবে আপাততঃ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর রেডিনেস এবং লজিস্টিক্যাল কন্ডিশন যে পর্যায়ে আছে, তাতে নতুন কোন ফ্রন্টলাইন খোলাটা তাদের জন্যে কতোটা বাস্তবসম্পন্ন হবে, তা নিয়ে বিতর্ক করাই যায়। [২] তথাপি তারা ভারতকে “কিছু করা”র জন্যে অনুপ্রাণিত করতে পারে। রাষ্ট্রকে দুর্বল করার Subversion-এর পদ্ধতিগুলি ভারত (যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে) কাজে লাগাতে চাইবে। যেসব অস্ত্রগুলি তারা কাজে লাগাতে চাইবে, সেগুলি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঐ প্রতিবেদনে পরোক্ষভাবে উল্লেখ রয়েছে- তথাকথিত জঙ্গী কর্মকান্ড, বিদেশী-‘মুক্তমনা’-মানবাধিকার কর্মী-সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, শ্রমিক অসন্তোষ, গণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে অরাজকতা, ইত্যাদি। এই কাজগুলি তারা সাম্প্রতিক সময়ে করেই আসছে, যার কিছু রেশ পাওয়া যাবে –

১। ধর্ষণ-হত্যার পর সমাজের অধঃপতনকে দায়ী না করে ক্যান্টনমেন্ট (সামরিক বাহিনীকে) টার্গেট করা
২। তুচ্ছ দাবীকে উপজীব্য করে দফায় দফায় নৌ ও সড়ক পরিবহণ ধর্মঘট করে দেশকে অচল করে ফেলা এবং সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা, যদিও শ্রমিকদের অবস্থার কোনদিনও উন্নতি হয় না
৩। গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে আনা, যখন শ্রমিকরা নিজেরাই জানে না যে কেন তারা কাজ বন্ধ করেছে
৪। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাস্তায় নামিয়ে আনা, অথচ আসল সামাজিক ইস্যুগুলি নিয়ে চুপ থাকা
৫। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুচ্ছ করে বিভিন্ন হেতুতে (যেমন- পরিবেশ, কৃষকের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার, ভোক্তা অধিকার, নারীর অধিকার, ইত্যাদি) হাতে গোনা বিশেষ কিছু ইস্যুতে ধর্মঘটের ডাক এবং বাকি সময়ে চুপ করে থাকা
৬। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেডিকেল কলেজ-হাসপাতালগুলিতে কর্মবিরতি পালন করে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা
৭। সংখ্যালঘুদের উপরে হামলা করে সেখানে বিশেষ কিছু লোককে পাঠানো, যাতে তারা মানুষকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে
৮। উপরের সবগুলি ব্যাপারে মিডিয়াতে এমনভাবে রিপোর্ট করা, যাতে জনগণ ভয়ে থাকে

এই হুমকি দেবার কারণ আসলে কি? (প্রতিবেদনে উল্লেখ করা) বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড? অবৈধ আটক? রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সংযোগে গুম? জঙ্গি মতবাদে উদ্বুদ্ধ গ্রুপের হত্যাকাণ্ড? নারী ও শিশু নির্যাতন? শ্রমিক নির্যাতন? নাকি সবগুলি? এর উত্তর পাওয়া সম্ভব বাকি বিশ্বের দিকে তাকালে। মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির মানবাধিকার কোন পর্যায়ে রয়েছে আজ, তা খুব একটা কষ্ট করে বোঝাতে হবে না। ঐ দেশগুলির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক খাতির রয়েছে; তথাকথিত সন্ত্রাস দমনের জন্যে সামরিক-বেসামরিক চুক্তিও রয়েছে। অর্থাৎ এই হত্যাকান্ড, আটক, নির্যাতন –এগুলি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরাকের আবু ঘরাইব কারাগার এবং গুয়ান্তানামো বে-তে যা করেছে, তাতে তথাকথিত মানবাধিকার নিয়ে তাদের আদৌ কোন মাথাব্যাথা থাকাটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তানে বিমান হামলা করে তারা কতো মানুষকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে Collateral Damage বলে ঘোষণা দিয়েছে, তার হিসাব করে বলা সম্ভব নয়। তাহলে কি কারণে এই হুমকি? কারণটা উপরে উল্লিখিত তথাকথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রগুলির তালিকার মাঝ থেকে বাদ রাখা হয়েছে, যা কিছু পাঠক হয়তো ধরতে পারবেন। এই কারণটা সেটাই যেটা উপরে উল্লিখিত সকল মানবাধিকার ভঙ্গকারী দেশও মেনে চলেছে, কিন্তু এখানে মানা হয়নি। এই কারণটা সেই চিন্তার গোড়ায় আঘাত হেনেছে, যা কিনা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা ধর্মবিশ্বাসের মতো অনুসরণ করে। সারা বিশ্বে মানুষের বাস্তবতা একদিকে প্রবাহিত হলেও সেই চিন্তাকে ধরে রাখতে তারা বদ্ধ পরিকর। এই চিন্তাটি হচ্ছে “নারীর অধিকার” নামের মরীচিকা। এই চিন্তার একটি মূল স্তম্ভ হলো “১৮ বছরের আগে কোন নারীকে বিয়ে করতে দেয়া যাবে না, তা সে যত প্রতিকূলতার মাঝেই পড়ুক না কেন”। ব্যাভিচারের মাধ্যমে জন্মলাভ করা পিতৃপরিচয়হীন সন্তানে দেশের সকল ডাস্টবিন ভরে যাওয়াটা এই রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। একটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস্তবতার সাথে না গেলেও এই অসুস্থ্য চিন্তাকে লালন করতে তারা ছিল বদ্ধ পরিকর। আর তাই কয়েকটি প্রভাবশালী পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেল বেশ কিছুদিন তাদের পত্রিকায়, টিভি চ্যানেলের গাড়িতে এবং দেয়ালে দেয়ালে “১৮” অঙ্কটি লিখে সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছে। এদের সেই বিফলতা প্রকৃতপক্ষে ছিল স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিফলতা, যা কিনা এই কুরুচিপূর্ণ প্রতিবেদনের জন্ম দিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তালিকায় থাকা বাকি “মানবাধিকার লঙ্ঘন”এর যে ক্ষেত্রটি নিয়ে এতো কথা, তা হলো তথাকথিত “বাল্য বিবাহ”।

যুক্তরাষ্ট্রের অমানবিক মানবাধিকারের হাত ধরে বঙ্গোপসাগরে ডোবার মতো অবস্থায় আজ নেই সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ (আসলে দুনিয়ার কেউই নেই)। দুনিয়ার আজকের বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের সাথেই যুদ্ধরত। তার আদর্শকে সে জলাঞ্জলি দিয়েছে নিজেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে। [৩] আর সেই আদর্শকেই এখনও সে সারা দুনিয়াতে বাজারজাত করতে চাচ্ছে তার এজেন্টদের মাধ্যমে। মার্কিন আদর্শ বাকি দুনিয়ার কাছে তার আকর্ষণ হারিয়েছে আরও আগেই; এখন শুধু এর বহিঃপ্রকাশ পাওয়া যাচ্ছে তার আদর্শিক চিন্তাগুলিকে নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলে দেবার মাধ্যমে। তার হুমকিও এখন মানুষের কাছে মূল্য হারিয়েছে। তার এজেন্টরা এখন ভীত। তাদের মনিবই তো চিন্তাকে বিসর্জন দিয়েছে; তাহলে তারা এখন কি করবে? মোটকথা চালকের আসনে পরিবর্তন যে আসছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। আদর্শিক দ্বন্দ্বে পরাজয়ের মুখে যুক্তরাষ্ট্র এখন যে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটাই স্বাভাবিক।



[১] ‘অতঃপর যুক্তরাষ্ট্রের ভারত জয়?’, সাম্প্রতিক দেশকাল, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

[২] ‘প্রশ্নের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা’, সাম্প্রতিক দেশকাল, ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৬

‘ওবামার যুদ্ধগুলো লড়বে কে?’, সাম্প্রতিক দেশকাল, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭

[৩] ‘যুক্তরাষ্ট্র কি নিজের যঙ্গেই যুদ্ধরত?’, সাম্প্রতিক দেশকাল, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭