Showing posts with label cIdeological Crisis. Show all posts
Showing posts with label cIdeological Crisis. Show all posts

Saturday, 12 October 2024

লেবাননে ইস্রাইলি আক্রমণ এবং গাজা গণহত্যার এক বছর – মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কি?

১২ই অক্টোবর ২০২৪

হিযবুল্লাহ বুঝতে পেরেছে যে, ইস্রাইলের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ-প্রচেষ্টা বড্ড দেরি হয়ে গেছে। গাজায় ইস্রাইলি হামলার সময় সাইডলাইনে বসে থেকে হিযবুল্লাহ কত বড় ভুল করেছে, সেটা এখন পরিষ্কার। বিশেষ করে হিযবুল্লাহর নেতৃত্ব এবং পুরো কমান্ড-কন্ট্রোল কাঠামো যখন ইস্রাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন ইরানও তাদের নিজেদের ভূমিতে ইস্রাইলি হামলার বিরুদ্ধে সবচাইতে বড় ডিটারেন্টকে দুর্বল হতে দেখেছে। 


ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মাইকেল ক্লার্ক 'স্কাই নিউজ'কে দেয়া সাক্ষাতে বলছেন যে, গত ২৭শে জুলাই ইস্রাইলের দখলকৃত গোলান মালভূমি এলাকার মাযদাল শামস শহরে হিযবুল্লাহর রকেট হামলা (যাতে ১২ জন নিহত হয়) হবার পর ইস্রাইল লেবাননে ব্যাপকভাবে হামলা শুরু করে। ইস্রাইল এমনভাবে জবাব দেয়া শুধু করে যেন মাযদাল শামসের ঘটনার জন্যেই তারা অপেক্ষা করছিলো। ইস্রাইলের লেবাননে হামলা নিয়ে প্রতিরক্ষা ম্যাগাজিন 'জেনস'এর এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে যে, বর্তমানে লেবাননে ইস্রাইলের হামলার শুরুতে ৩০শে জুলাই হিযবুল্লাহর সিনিয়র নেতা ফুয়াদ শুকরকে হত্যা করা হয়। হিযবুল্লাহ প্রায় এক মাস পর ২৫শে অগাস্ট উত্তর ইস্রাইলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ রকেট এবং শেল নিক্ষেপ করে এই হত্যার জবাব দেয়। তবে এই জবাবের কথা চিন্তা করে আগেভাগেই ইস্রাইলিরা পুরো লেবানন জুড়ে হিযবুল্লাহর রকেটের অবস্থান এবং অবকাঠামোর উপর বিমান হামলা করে। ইস্রাইল দাবি করে যে, এই হামলায় হিযবুল্লাহর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ রকেট এবং শেল নিক্ষেপ সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তথাপি ১লা সেপ্টেম্বর থেকে 'জেনস'এর হিসেবে ইস্রাইলে হিযবুল্লাহর হামলা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; এবং কমপক্ষে একই হারে লেবাননে ইস্রাইলের হামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর লেবাননে পেইজার এবং ওয়াকিটকি হামলার মাধ্যমে কমপক্ষে ৩২ জনকে হত্যা এবং আরও প্রায় ৩ হাজার জনকে আহত করার পর ইস্রাইলের লেবানন অপারেশন এক ধাপ এগিয়ে যায়। এই হামলা নিঃসন্দেহে হিযবুল্লাহর কমান্ড-কন্ট্রোল অবকাঠামোকে দুর্বল করে ফেলে। যে ব্যাপারটা ইস্রাইলের এই অপারেশনের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে তা হলো, ইস্রাইল এখন আর হিযবুল্লাহর কোন প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে ভয়ে নেই; বরং তারা নিজেরাই বড় কোন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আগে থেকেই স্বাধীনভাবে কোন অপারেশন চালাতে পারে। পেইজার হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ২০শে সেপ্টেম্বর হিযবুল্লাহ ইস্রাইলি অবস্থানের উপর কমপক্ষে ২৯০টা রকেট এবং শেল নিক্ষেপ করে। তবে ইস্রাইল আবার এর জবাবে বৈরুতে হামলা করে হিযবুল্লাহর স্পেশাল অপারেশনসএর 'রেদওয়ান ফোর্স'এর কমান্ডার ইব্রাহিম আকীলকে হত্যা করে। এর জবাবে হিযবুল্লাহ ২০২৩এর অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো ২২শে সেপ্টেম্বর 'ফাদি-১' (৮০কিঃমিঃ পাল্লা) এবং 'ফাদি-২' (১০৫কিঃমিঃ পাল্লা) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫শে সেপ্টেম্বর তেল আভিভ লক্ষ্য করে 'ক্বদর-১' ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, হিযবুল্লাহ তার নীতি অনুযায়ী ইস্রাইলি হামলার পরিধি বৃদ্ধির জবাবে নিজেদের হামলার পরিধিও বৃদ্ধি করেছে। তবে ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বরের মাঝে ইস্রাইল লেবাননে কমপক্ষে ২ হাজার টার্গেটে বোমাবর্ষণ করে; যার মাঝে ছিল রকেট লঞ্চার, মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক অবকাঠামো, এবং ইন্টেলিজেন্স অবকাঠামো। এর মাঝে সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২৭শে সেপ্টেম্বর হিযবুল্লাহর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কমান্ড বাংকারে হামলা; যেখানে তাদের সর্বোচ্চ নেতা হাসান নাসরাল্লাহসহ কমপক্ষে ২০ জন নেতা নিহত হন; যাদের মাঝে ছিলেন হিযবুল্লাহর দক্ষিণ লেবাননের কমান্ডার আলী খারাকি। এই বিমান হামলার মাধ্যমে হিযুবুল্লাহর যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত ইস্রাইলি হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং কয়েক লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুত হবার খবর পাওয়া যায়।

মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, ইস্রাইলিরা দাবি করছে যে, তারা হিযবুল্লাহর নেতা হাশিম শাফিউদ্দিনকে হত্যা করেছে। এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও দেখা যাচ্ছে যে, ইরানও এমনভাবে কথা বলছে যেন তাকে হত্যা করা হয়েছে। ইস্রাইলিরা যে কৌশলটা নিয়ে এগুচ্ছে তা হলো, তারা হিযবুল্লাহকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করছে না; তবে হিযবুল্লাহর নেতৃত্ব এবং সক্ষমতাকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে, যাতে করে হিযবুল্লাহ অনেক লম্বা সময় ধরে ব্যাকফুটে চলে যায়। আর এই সময়ের মাঝে ইস্রাইলিরা গাজা এবং লেবাননের সামরিক বাস্তবতাকে পরিবর্তন করে ফেলতে চেষ্টা করবে। আর যদি ইরান কিছু করতে চায়, তাহলে তারা হয়তো বাস্তবতার কারণে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হবে। দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণের বাসিন্দাদেরকে ইস্রাইল সরে যেতে বলছে। শুধু তা-ই নয়, তারা এরও উত্তরে আওয়ালি নদীর দক্ষিণেও অনেক বাসিন্দাদেরকে সরে যেতে বলেছে। এর অর্থ এটা হতে পারে যে, হয়তো তারা লিটানি নদী এবং আওয়ালি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বোমা হামলা করবে, অথবা এই অঞ্চলকে সেনাবাহিনীর হামলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে; যা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
 
দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণের বাসিন্দাদেরকে ইস্রাইল সরে যেতে বলছে। শুধু তা-ই নয়, তারা এরও উত্তরে আওয়ালি নদীর দক্ষিণেও অনেক বাসিন্দাদেরকে সরে যেতে বলেছে। এর অর্থ এটা হতে পারে যে, হয়তো তারা লিটানি নদী এবং আওয়ালি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বোমা হামলা করবে, অথবা এই অঞ্চলকে সেনাবাহিনীর হামলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে


প্রাক্তন ইস্রাইলি কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ-ইস্রাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল লেভি 'মিডলইস্ট আই'কে দেয়া এক সাক্ষাতে বলছেন যে, লেবাননে ইস্রাইলের পেইজার আক্রমণে এটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে, ইস্রাইল এখন লেবাননে তার আক্রমণকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। এটা ইস্রাইলের পক্ষে সম্ভব হয়েছে কারণ এক বছর ধরে গাজায় হামলা চালিয়ে যাবার সময় তার মার্কিনীদের কাছ থেকে কোন বাধার সন্মুখীন হওয়া তো দূরে থাক, ইস্রাইলিরা দেখেছে যে, মার্কিনীরা ইস্রাইলের সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। এর ফলে ইস্রাইলিরা নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা যা কিছুই করুক না কেন, সেটা ওয়াশিংটন সমর্থন করে যাবে। ইস্রাইলে এখন কোন কূটনীতি নেই; সেখানে সকল চিন্তাই এখন সামরিক। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একদিকে যেমন নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চাইছেন, তেমনি তিনি ইস্রাইলের আদর্শিক ব্যাপারগুলিকে ব্যবহার করেছেন। এর ফলে ইস্রাইলের পার্লামেন্টে যারা নেতানিয়াহুর বিরোধী তাদেরকেও লেবানন অপারেশনের জন্যে গ্রিন লাইট দিতে দেখা গিয়েছে।

‘আল-জাজিরা'র সাথে সাক্ষাতে প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক এবং 'দ্যা এরাব সেন্টার'এর সিনিয়র ফেলো নাবীল খৌরি বলছেন যে, ইস্রাইলিরা হয়তো হামাসের সক্ষমতাকে কমাতে চাইছে এবং লেবাননের দক্ষিণে লিটানি নদীর কিছুটা উত্তর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। কিন্তু তার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা একটা কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে; যার মাধ্যমে তারা পুরো ফিলিস্তিনের এলাকায় ভৌগোলিক পরিবর্তন আনতে চাইছে। যেমন, সকল জনগণকে সরিয়ে দিয়ে তারা গাজার পুরো এলাকা দখলে নিয়ে ইহুদিদের বসবাসের ব্যবস্থা করতে চাইছে। একইসাথে তারা ধীরে ধীরে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে। হয়তো লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপারেও তাদের এধরণেরই কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে। ২০০৬ সালে ইস্রাইল হিযবুল্লাহর সক্ষমতাকে কমাতে চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সেই কাজে তারা ব্যর্থ হয়। এবারে লেবাননে তাদের হামলা অনেক বেশি ভয়াবহ। হয়তো তারা একইসাথে লেবাননের নেতৃত্বের কাঠামোকেও পরিবর্তন করে ফেলতে চাইছে। এই মুহুর্তে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে লেবাননে কোন প্রেসিডেন্ট নেই; একটা কেয়ারটেকার সরকারের মাধ্যমে কর্মকান্ড চলছে। হয়তো এই সুযোগে ইস্রাইল এমন কাউকে লেবাননের সরকারে দেখতে চাইতে পারে, যে ইস্রাইলের বন্ধুও যদি না হয়, অন্ততঃ ইস্রাইলের বিরোধিতা করবে না। আর যে ব্যাপারটা পরিষ্কার তা হলো ইস্রাইল কোন প্রকারের অস্ত্রবিরতি মানবে না; সেটা অতি স্বল্প সময়ের জন্যেও যদি হয়। কোন স্থিতিশীল শান্তিতেও ইস্রাইল আগ্রহী নয়। নেতানিয়াহু সরকারের বিরোধীরাও যুদ্ধবিরতি না করার জন্যে এবং জিম্মিদের উদ্ধার না করার জন্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছে। হোয়াইট হাউজে বাইডেন প্রশাসন এব্যাপারে সকল কিছুই জানে; কিন্তু কিছুই করেনি।

এক বছর ধরে গাজায় ৪১ হাজার মানুষ হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু সম্মতিই দিয়ে যায়নি; সামরিক সহায়তা পাঠিয়ে ইস্রাইলকে সুরক্ষা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সকল পশ্চিমা দেশও ইস্রাইলের সুরক্ষায় সামরিক শক্তি পাঠিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে। কিন্তু তুরস্ক এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সকল রাষ্ট্র ইস্রাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে কিছুই করেনি। ইস্রাইল, যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্ব এক পক্ষে এসে গণহত্যাকে সার্টিফিকেট দেয়াটা একদিকে যেমন দেউলিয়া হওয়া বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি তা মুসলিম বিশ্বে বড় আকারের পরিবর্তনের সম্ভাবনাকেও আগের চাইতে অনেক বৃদ্ধি করে।

মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, এক বছর আগে হামাসের হামলার মাধ্যমে গাজায় ইস্রাইলের বোমাবর্ষণ শুরু হয়। হামাসের নেতৃত্ব গাজার বাইরেও আঞ্চলিকভাবে ইস্রাইল-বিরোধী একটা সংঘাত শুরু করতে চাইছিলো। এবং এক বছর পর ইস্রাইল গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়াতে যুদ্ধ করছে; এমনকি ইরানেও হামলা করা পরিকল্পনা করছে। তবে আশ্চর্য্য ব্যাপার হলো, এক বছর পর এই সংঘাত আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হলেও সেখানে ইস্রাইল ব্যাকফুটে নেই; তারা আক্রমণে রয়েছে। তারা হামাসের ১৭ হাজারের বেশি সদস্যকে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে; এবং হামাসের ২৪টা ব্যাটালিয়নের কাঠামোকে ধ্বংস করেছে। তবে এর মাধ্যমে ইস্রাইল কত হাজার মানুষকে ইস্রাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করবে, তার হিসেব নেই। তথাপি এর মাধ্যমে ইস্রাইল এখন হিযবুল্লাহর দিকে নজর দিতে পারছে। এবং তারা হিযবুল্লাহর বিরুদ্ধে সেটাই করছে, যারা তারা হামাসের বিরুদ্ধে করেছিলো - হিযুবুল্লাহর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দুই স্তরের প্রায় সকলকেই তারা হত্যা করেছে। ইস্রাইল বলছে যে, তারা ইস্রাইলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেবে। ইস্রাইলি মিডিয়া বলছে যে, আমেরিকানরা ইস্রাইলকে আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে চাইছে, যদি ইস্রাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে হামলা করা থেকে বিরত থাকে। তবে ইস্রাইল যদি ইরানের তেলের স্থাপনায় (যেমন খারগ দ্বীপ) হামলা করে বসে, তাহলে এর ফলাফল হবে মারাত্মক। ইস্রাইল বলছে যে, এটা তাদের জন্যে মধ্যপ্রাচ্যকে পরিবর্তন করার একটা অভূতপূর্ব সুযোগ; আর আরবের অনেক নেতাই ইস্রাইলের সাথে একমত। তবে যে ব্যাপারটা নিশ্চিত তা হলো, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ২০২৩এর অক্টোবরের ৭ তারিখের আগে যা ছিলো, সেখানে ফেরত যাবে না।

প্রায় দশ মাস ধরে ইস্রাইল যখন গাজায় ব্যাপক বোমা হামলা করছিলো, তখন হিযবুল্লাহ ইস্রাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকারে সংঘাতে জড়িয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র গত অগাস্ট মাস থেকেই হিযবুল্লাহ ইস্রাইলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হামলা শুরুর চেষ্টা করেছে; যখন ইস্রাইল গাজার যুদ্ধকে গুছিয়ে নিয়ে হিযবুল্লাহর সক্ষমতাকে ধ্বংস করার জন্যে পুরো শক্তিকে নিয়োজিত করেছে। হিযবুল্লাহ বুঝতে পেরেছে যে, ইস্রাইলের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ-প্রচেষ্টা বড্ড দেরি হয়ে গেছে। গাজায় ইস্রাইলি হামলার সময় সাইডলাইনে বসে থেকে হিযবুল্লাহ কত বড় ভুল করেছে, সেটা এখন পরিষ্কার। বিশেষ করে হিযবুল্লাহর নেতৃত্ব এবং পুরো কমান্ড-কন্ট্রোল কাঠামো যখন ইস্রাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন ইরানও তাদের নিজেদের ভূমিতে ইস্রাইলি হামলার বিরুদ্ধে সবচাইতে বড় ডিটারেন্টকে দুর্বল হতে দেখেছে। এক বছর ধরে গাজায় ৪১ হাজার মানুষ হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু সম্মতিই দিয়ে যায়নি; সামরিক সহায়তা পাঠিয়ে ইস্রাইলকে সুরক্ষা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সকল পশ্চিমা দেশও ইস্রাইলের সুরক্ষায় সামরিক শক্তি পাঠিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে। কিন্তু তুরস্ক এবং ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সকল রাষ্ট্র ইস্রাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে কিছুই করেনি। এহেন পরিস্থিতিতে ইস্রাইল যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের ইচ্ছামতো চলবে, তাতে অবাক হবার কিছু নেই। এর ফলশ্রুতিতে ইস্রাইলকে যতই শক্তিশালী মনে হোক না কেন, মধ্যপ্রাচ্যের যে সরকারগুলির মাধ্যমে ইস্রাইলের সীমান্তগুলি নিরাপদে থাকছে, সেই সরকারগুলি ইস্রাইলের পক্ষে তাদের নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। ইস্রাইল, যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্ব এক পক্ষে এসে গণহত্যাকে সার্টিফিকেট দেয়াটা একদিকে যেমন দেউলিয়া হওয়া বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি তা মুসলিম বিশ্বে বড় আকারের পরিবর্তনের সম্ভাবনাকেও আগের চাইতে অনেক বৃদ্ধি করে।