১২ই নভেম্বর ২০২২
ইউক্রেন যুদ্ধে আরও একটা বড় ঘটনা ঘটলো রুশ সেনাদের খেরসন শহর ছেড়ে যাবার সাথেসাথে। বেলজিয়ামের আকৃতির ইউক্রেনের দক্ষিণের খেরসন প্রদেশ দখল করে নেবার পরে মস্কো গত সেপ্টেম্বরের শেষে ইউক্রেনের আরও তিনটা প্রদশসহ রাশিয়ার মূল ভূখন্ডের অংশ বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে খেরসন শহরের উত্তর-পূর্ব থেকে ইউক্রেনিয় আক্রমণে দেশটার সবচাইতে বড় এবং চওড়া নীপার নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত খেরসন শহরে রুশ সেনাদের অবস্থান হুমকির মাঝে পড়ে যায়। একারণে গত ৯ই নভেম্বর রুশ কর্মকর্তারা খেরসন শহর ছেড়ে যাবার জন্যে রুশ ইউনিটিগুলিকে নির্দেশ দেয়। অনেকেই ধারণা করছিলেন যে, খেরসন শহর ছেড়ে না আসলে কয়েক হাজার রুশ সেনা নদীর ওপাড়ে আটকা পড়তে পারতো। এর মাধ্যমে রুশরা নীপার নদীর পশ্চিম তীরে তাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানটা হারালো। ১১ই নভেম্বর রুশ সেনারা শহর পুরোপুরি ছেড়ে যাবার আগেই ইউক্রেনের কর্মকর্তারা খেরসনে প্রবেশ করে সিটি হলের উপরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। তবে রুশদের মাঝে অনেকের জন্যেই খেরসন ছেড়ে আসাটা ছিল কষ্টকর এবং অপমানজনক। রুশ সাংবাদিক ইউরি কোতিওনোক এক টেলিগ্রাম পোস্টে প্রশ্ন করেন যে, রুশরা কেন সেখানে সকল কিছু ধ্বংস করে এবং জ্বালিয়ে দিয়ে আসলো না?
নীপার নদীর উপরে নোভা কাখভকা বাঁধও ইউক্রেনিয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই বাঁধ ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে সেচের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সবচাইতে বড় গুরুত্ব হলো এখান থেকে খালের মাধ্যমে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে পানি পৌঁছায়। ২০১৪ সালে রুশদের দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপে বড় কোন পানির উৎস নেই। ইউক্রেনিয়রা ক্রিমিয়াতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। সেজন্যে যুদ্ধের শুরুতেই রুশদের একটা লক্ষ্য ছিল ক্রিমিয়াতে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। এখন ইউক্রেনিয়রা আবারও ক্রিমিয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। ইউক্রেনিয় বিশ্লেষক আলেক্সেয় কুশ ‘আল জাজিরা’কে বলছেন যে, খেরসন শহর নীপার নদীর নদীপথ এবং এর উপরে শিপইয়ার্ডগুলির জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেও রুশরা এখনও নীপার নদী থেকে কৃষ্ণ সাগরের প্রবেশস্থলে ‘কিনবার্ন স্পিট’এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মেজর জেনারেল এবং মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্রাডিজ’ বা ‘সিএসআইএস’এর মিক রায়ান টুইটারে এক বিশ্লেষণে বলছেন যে, রুশদের খেরসন ছেড়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, রুশরা আত্মসমর্পণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের ইউনিটগুলিকে পুনর্গঠন করছে। রুশরা দুর্বল হলেও তাদের দখলীকৃত অঞ্চলগুলিকে তারা ছেড়ে দেয়ার চিন্তায় নেই। খেরসন থেকে সরিয়ে নেয়া সেনাদেরকে কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, সেটা দেখে বোঝা যাবে যে, রুশ সেনাদের যুদ্ধ করার সক্ষমতা কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং রুশ জেনারেল সুরভকিন ২০২৩ সালের শুরুতে কিসের উপরে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। অপেক্ষাকৃত কম এলাকা রক্ষা করতে হবে বলে সুরভকিনের পক্ষে তারা সেনাদের সংগঠিত করা কিছুটা সহজ হবে। আর রুশদের অবস্থান শক্ত করার অর্থ হলো যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়া।
‘আল জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, খেরসন শহরে রুশরা বিলবোর্ড লাগিয়েছিল, যেখানে রুশ কর্মকর্তাদের বার্তা দিয়েছে যে, ‘রাশিয়া এখানে থাকবে চিরকালের জন্য’। কিন্তু ১০ই নভেম্বর যখন হাজার হাজার রুশ সেনা খেরসন ছেড়ে যাচ্ছিলো, তখন ইউক্রেনিয়রা রুশদের বার্তাগুলিকে কটাক্ষ করছে। যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলছেন যে, খেরসন রাশিয়ার অংশ ছিল এবং এতে কোন পরিবর্তন হবে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন যে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে বড় রকমের পরিবর্তন আসলো এবং রুশ ভূরাজনৈতিক সন্মান আবারও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘ইন্সটিটিউট ফর দ্যা স্টাডি অব ওয়ার’ বা ‘আইএসডব্লিউ’ এক বিশ্লেষণে বলছে যে, আসন্ন শীতকাল অপেক্ষাকৃত খারাপভাবে সজ্জিত রুশ সেনাদের জন্যে বেশি কঠিন হবে। অপরদিকে ইউক্রেনিয়রা হয়তো শীতকালেও তাদের আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে। শীতকালে মাটি শক্ত হয়ে যাবার ফলে শরৎকালের কর্দমাক্ত সময়ের তুলনায় ভূমির উপর দিয়ে চলাচল আরও সহজ হবে। ‘ফরেন পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট’এর সিনিয়র ফেলো রব লী টুইটারে এক বিশ্লেষণে বলছেন যে, রুশ সেনারা মনোবলের দিকে থেকে ইউক্রেনিয়দের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। একারণে শীতকালের খারাপ আবহাওয়াকেও ইউক্রেনিয়রা সুযোগ হিসেবে নিয়ে তাদের পুনর্দখল করা অঞ্চলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চাইতে পারে।
জার্মানির ‘ব্রিমেন ইউনিভার্সিটি’র প্রফেসর নিকোলায় মিত্রোখিন ‘আল জাজিরা’কে বলছেন যে, খেরসন হারাবার পরে ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলে রুশদের আক্রমণ করার সক্ষমতা খুবই কমে গেলো। এখন রুশদের হাতে রয়েছে অর্ধ্বচন্দ্রাকৃতির একটা ভূখন্ড। ইউক্রেনিয় সেনারা পরবর্তীতে খেরসন প্রদেশের পূর্বদিকে আজভ সাগরের তীরবর্তী মেলিটোপোল, বেরদিয়ানস্ক এবং মারিউপোলের দিকে আক্রমণ চালালে রুশরা বর্তমানে তাদের হাতে থাকা খেরসন প্রদেশের অঞ্চলগুলিকেও ছেড়ে দিয়ে ক্রিমিয়াতে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। একইসাথে রুশরা যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণের ওডেসা বন্দর এবং মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী ট্রান্সনিস্ত্রিয়া অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে নেবার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তা এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘সেন্ট্রাল এশিয়া ডিউ ডিলিজেন্স’এর প্রধান আলিশার ইলখামমভ বলছেন যে, ইউক্রেনে রুশদের সামরিক বিপর্যয়ে রাশিয়ার সন্মান যেমন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তেমনি তা মধ্য এশিয়াতে ভূরাজনৈতিক শূণ্যতা তৈরি করেছে। এই শূণ্যতার জায়গাটা নিতে যাচ্ছে চীন এবং তুরস্ক।
জেনারেল মিক রায়ান বলছেন যে, খেরসন ছেড়ে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিতে রুশদেরকে ইউক্রেনের উপরে কৌশলগত হামলা করে যেতে হবে, যাতে করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে থাকে। এক্ষেত্রে ইরানের কাছ থেকে আমদানি করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলি কাজে আসতে পারে। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’এর এক লেখায় ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’এর ফেলো ম্যাক্স বুট বলছেন যে, খেরসনে ইউক্রেনের বিজয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা কোয়ালিশনকে টিকিয়ে রাখবে এবং মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ নেবার আগেই ইউক্রেনের জন্যে আরও অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রুশ বিশ্লেষক পাভেল লুজিন ‘দ্যা ইনসাইডার’এর এক লেখায় বলছেন যে, রাশিয়ার সামনে এখন কোন কষ্টহীন পথ নেই। যদি ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, তাহলে হয়তো বাকি দুনিয়া থেকে আরও বেশি দূরে সরে যেতে হতে পারে। আর নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলে বড় কোন পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
Showing posts with label Crimea. Show all posts
Showing posts with label Crimea. Show all posts
Friday, 11 November 2022
রুশ সেনাদের খেরসন শহর ছেড়ে যাবার কৌশলগত গুরুত্ব
Labels:
Crimea,
Geopolitics,
Kherson,
Russia,
Ukraine War,
USA
Sunday, 9 October 2022
ক্রিমিয়ার কার্চ সেতুর উপর হামলার গুরুত্ব কতখানি?
০৯ই অক্টোবর ২০২২
০৮ই অক্টোবর রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কার্চ সেতুর একাংশ এক হামলায় ধ্বসে পড়ে। সড়কপথের দু’টা লেনের মাঝে একটা লেনের তিনটা স্প্যান দু’জায়গায় পানিতে পড়ে যায়। একইসাথে এই সেতুর সমান্তরালে রেলসেতুর উপর দিয়ে চলা রেলগাড়ির কয়েকটা তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়; যা পরের দিন পর্যন্ত চলে এবং সেতুর বেশ খানিকটা এতে পুড়ে যায়। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ খুব সম্ভবতঃ একটা ট্রাক বোমার মাধ্যমে ঘটানো হয়। সকলেই এই আক্রমণের জন্যে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকেই সন্দেহ করলেও ইউক্রেন সরকার এই হামলার জন্যে দায় স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেনের জনগণ এই হামলাকে উৎসব হিসেবে পালন করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেন্সকি সোশাল মিডিয়াতে এক ভিডিও বার্তায় ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বলেন যে, ইউক্রেনের আকাশে ঝলমলে সূর্য থাকলেও ক্রিমিয়ার আকাশ মেঘে ঢাকা রয়েছে। আর মেঘে ঢাকা থাকলেও ইউক্রেনিয়রা জানে যে, কি করতে হবে। জেলেন্সকি ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ বলে ঘোষণা দেন যে, ভবিষ্যতে ক্রিমিয়া এবং অন্যান্য দখলীকৃত অংশ ইউক্রেনের হাতে ফেরত আসবে। ব্রিটেনের পত্রিকা ‘দ্যা সান’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ২০১৮ সালে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি করা এই সেতু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্যে খুবই গর্বের একটা বিষয় ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন সরকার এই সেতুতে হামলার জন্যে হুমকিও দিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে, একটা ২২ চাকার ট্রাক লরির কাছাকাছি বিস্ফোরণের শুরু। রুশ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, এই ট্রাক সেতুর রুশ প্রান্ত থেকে চেকপয়েন্ট অতিক্রম করছে এবং সেখানে সেনারা ট্রাকটা পর্যবেক্ষণ করছে। রুশরা বলছে যে, এই হামলা খুব সম্ভবতঃ ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এসবিইউ’এর কাজ। রুশ বিশ্লেষক ইউরি পদোলিয়াকা বলছেন যে, ট্রাকটা খুব সম্ভবতঃ রুশ চালকই চালাচ্ছিলেন। তিনি হয়তো জানতেন না যে, তার ট্রাকে কি ছিল। ইউক্রেনিয়রা হয়তো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টনি স্পামার ‘ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল’কে বলছেন যে, বোমার উৎস ট্রাক নাও হতে পারে। কারণ ট্রাকে বোমা থাকলে রাস্তার উপর গর্ত তৈরি হতো; সেতুর একাংশ পানিতে পড়ে যেতো না। এরকম ধ্বংসযজ্ঞের জন্যে সেতুর পুরো প্রস্থ জুড়ে আঘাত করতে হবে। দেখে মনে হচ্ছে যে, বোমাটা সেতুর নিচ থেকেই ফাটানো হয়েছে। এটা একটা দৈত্যাকৃতির বিস্ফোরণ ছিল। স্পামারের থিউরির সমর্থক কেউ কেউ সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের সময় সেতুর নিচে রহস্যজনক জলযানের উপস্থিতি খুঁজে পাচ্ছেন। তবে টনি স্পামারএর মতের সাথে অনেকেই এক হতে পারেননি, যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতুর নিচ থেকে তোলা ছবি সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ সেতুর নিচের দিকে কোন বিস্ফোরণের আলামত দেখা যায় না। কংক্রিটের পিলারগুলি শক্তিশালী হলেও অনেকেই সেতুর স্প্যানগুলির নিচে ধাতুর কাঠামোর হাল্কা কনস্ট্রাকশনের সমালোচনা করেন; যা হয়তো স্প্যানগুলি ধ্বসে পড়তে সহায়তা দিয়েছে।
কেউ কেউ অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারটাও উড়িয়ে দিতে নারাজ। ‘স্কাই নিউজ’এর সাথে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট’এর প্রাক্তন ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, এই ঘটনা হয় ইউক্রেনের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ঘটিয়েছে, অথবা এটা একটা ক্ষেপণাস্ত্রের কাজ; যা কিনা এই মুহুর্তে ইউক্রেনের হাতে রয়েছে বলে জানা নেই। মোটকথা, বিশ্লেষকেরা কেউই এই মুহুর্তে নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, এই ঘটনা কিভাবে ঘটানো হয়েছে। হয়তো প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। এই মুহুর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যুদ্ধের উপরে এই হামলার প্রভাব কতটুকু হতে পারে।
মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, এই সেতু কিছুদিনের মাঝেই হয়তো মেরামত করা হয়ে যাবে। এর আগ পর্যন্ত দক্ষিণের খেরসনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রসদ মারিউপোল এবং বেরদিয়ানস্ক সমুদ্রবন্দর হয়ে সেখান থেকে রেলযোগে মেলিটোপোল হয়ে খেরসন পৌঁছাবে। এই রেললাইনের একাংশ ইউক্রেনের দূরপাল্লার আর্টিলারি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তখন খেরসনে ইউক্রেনের আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে। রুশরা সামরিক রসদ পরিবহণে সড়কের চাইতে রেলের উপরে বেশি নির্ভরশীল। তবে যেহেতু কার্চ সেতুর রেল অংশটা ধ্বসে পড়েনি; শুধু ক্ষতি হয়েছে কিছুটা, তাই ইউক্রেন খুব বেশি হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় পাবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর জন্যে।
মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস’ বা ‘সিএসআইএস’এর ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল মিক রায়ান এক টুইটার বার্তায় বলছেন যে, কার্চ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেলিটোপোল হয়ে স্থলভাগের উপর দিয়ে রেললাইনটা এখন বেশি ব্যবহৃত হবে। আর এর বাইরেও কার্চ প্রণালি পার হবার জন্যে ফেরিও রয়েছে। তবে এই ঘটনার ফলে মেলিটোপোল অধিকারে রাখাটা রুশদের জন্যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো। আর রুশরাও হয়তো একারণে দক্ষিণের দিকে তাদের সেনা মোতায়েন বাড়াতে পারে। এর ফলে যুদ্ধের অন্যান্য ফ্রন্টে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর জন্যে সুযোগ তৈরি হবে। মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’এর সিনিয়র ফেলো এবং প্রাক্তন মার্কিন ম্যারিন কোর সদস্য রব লী টুইটারে জেনারেল মিক রায়ানএর মতামত সমর্থন করে বলছেন যে, ক্রিমিয়াতে রসদ পৌঁছাতে মেলিটোপোলের রেল জংশনের গুরুত্ব বাড়ার সাথেসাথে মেলিটোপোলের ১’শ ২০ কিঃমিঃ উত্তরে অবস্থিত জাপোরিজজিয়া বরাবর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে; যদিও ইউক্রেনিয়রা হয়তো আরও আগেই এই পরিকল্পনা করে থাকতে পারে।
২৭শে জুলাই খেরসন এবং ৬ই সেপ্টেম্বর খারকিভের অপারেশন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যুদ্ধের গতিপথের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খেরসনে ইউক্রেনের অপারেশন শুরুর আগ থেকেই রুশরা পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য ফ্রন্ট থেকে সেনা সড়িয়ে খেরসনে মোতায়েন করে। এর ফলে ইউক্রেনিয়রা যখন খারকিভে অপারেশন শুরু করে, তখন কয়েক দিনের মাঝেই রুশরা কয়েক হাজার বর্গ কিঃমিঃ এলাকা ছেড়ে দিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এখন ইউক্রেনিয়রা আবারও খেরসন অভিমুখে অপারেশনের দিক পাল্টাবার ফলে রুশরাও সেদিকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। এমনই একটা সময়ে কার্চ সেতুর উপর হামলার ঘটনাটা ঘটলো। এতে রুশদের দীর্ঘমেয়াদে কোন ক্ষতি না হলেও রুশ গর্ব এতে যথেষ্টই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৫ই মে ভ্লাদিমির পুতিন নিজে ট্রাক চালিয়ে ১৭ কিঃমিঃ লম্বা রাশিয়ার দীর্ঘতম সেতুটা উদ্ভোধন করেছিলেন। সেতুর উপর আক্রমণে রুশদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা দেয়ার সক্ষমতা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কার্চ সেতুর উপর হামলা যা দিয়েই করা হোক না কেন, এটা ছিল একটা দুঃসাহসিক অপারেশন। আর ইউক্রেনিয়রা এই হামলার ফল কতটা ভোগ করতে পারবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দক্ষতার উপর। পশ্চিমা সরঞ্জামের উপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল হলেও ইউক্রেনের সেনাদেরকেই প্রমাণ করতে হচ্ছে যে, তারা রুশ সেনাদের চাইতে অধিকতর দক্ষ।
০৮ই অক্টোবর রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কার্চ সেতুর একাংশ এক হামলায় ধ্বসে পড়ে। সড়কপথের দু’টা লেনের মাঝে একটা লেনের তিনটা স্প্যান দু’জায়গায় পানিতে পড়ে যায়। একইসাথে এই সেতুর সমান্তরালে রেলসেতুর উপর দিয়ে চলা রেলগাড়ির কয়েকটা তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়; যা পরের দিন পর্যন্ত চলে এবং সেতুর বেশ খানিকটা এতে পুড়ে যায়। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ খুব সম্ভবতঃ একটা ট্রাক বোমার মাধ্যমে ঘটানো হয়। সকলেই এই আক্রমণের জন্যে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকেই সন্দেহ করলেও ইউক্রেন সরকার এই হামলার জন্যে দায় স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেনের জনগণ এই হামলাকে উৎসব হিসেবে পালন করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেন্সকি সোশাল মিডিয়াতে এক ভিডিও বার্তায় ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বলেন যে, ইউক্রেনের আকাশে ঝলমলে সূর্য থাকলেও ক্রিমিয়ার আকাশ মেঘে ঢাকা রয়েছে। আর মেঘে ঢাকা থাকলেও ইউক্রেনিয়রা জানে যে, কি করতে হবে। জেলেন্সকি ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ বলে ঘোষণা দেন যে, ভবিষ্যতে ক্রিমিয়া এবং অন্যান্য দখলীকৃত অংশ ইউক্রেনের হাতে ফেরত আসবে। ব্রিটেনের পত্রিকা ‘দ্যা সান’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে, ২০১৮ সালে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি করা এই সেতু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্যে খুবই গর্বের একটা বিষয় ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন সরকার এই সেতুতে হামলার জন্যে হুমকিও দিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে, একটা ২২ চাকার ট্রাক লরির কাছাকাছি বিস্ফোরণের শুরু। রুশ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, এই ট্রাক সেতুর রুশ প্রান্ত থেকে চেকপয়েন্ট অতিক্রম করছে এবং সেখানে সেনারা ট্রাকটা পর্যবেক্ষণ করছে। রুশরা বলছে যে, এই হামলা খুব সম্ভবতঃ ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এসবিইউ’এর কাজ। রুশ বিশ্লেষক ইউরি পদোলিয়াকা বলছেন যে, ট্রাকটা খুব সম্ভবতঃ রুশ চালকই চালাচ্ছিলেন। তিনি হয়তো জানতেন না যে, তার ট্রাকে কি ছিল। ইউক্রেনিয়রা হয়তো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টনি স্পামার ‘ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল’কে বলছেন যে, বোমার উৎস ট্রাক নাও হতে পারে। কারণ ট্রাকে বোমা থাকলে রাস্তার উপর গর্ত তৈরি হতো; সেতুর একাংশ পানিতে পড়ে যেতো না। এরকম ধ্বংসযজ্ঞের জন্যে সেতুর পুরো প্রস্থ জুড়ে আঘাত করতে হবে। দেখে মনে হচ্ছে যে, বোমাটা সেতুর নিচ থেকেই ফাটানো হয়েছে। এটা একটা দৈত্যাকৃতির বিস্ফোরণ ছিল। স্পামারের থিউরির সমর্থক কেউ কেউ সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের সময় সেতুর নিচে রহস্যজনক জলযানের উপস্থিতি খুঁজে পাচ্ছেন। তবে টনি স্পামারএর মতের সাথে অনেকেই এক হতে পারেননি, যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতুর নিচ থেকে তোলা ছবি সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ সেতুর নিচের দিকে কোন বিস্ফোরণের আলামত দেখা যায় না। কংক্রিটের পিলারগুলি শক্তিশালী হলেও অনেকেই সেতুর স্প্যানগুলির নিচে ধাতুর কাঠামোর হাল্কা কনস্ট্রাকশনের সমালোচনা করেন; যা হয়তো স্প্যানগুলি ধ্বসে পড়তে সহায়তা দিয়েছে।
কেউ কেউ অবশ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারটাও উড়িয়ে দিতে নারাজ। ‘স্কাই নিউজ’এর সাথে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট’এর প্রাক্তন ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, এই ঘটনা হয় ইউক্রেনের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ঘটিয়েছে, অথবা এটা একটা ক্ষেপণাস্ত্রের কাজ; যা কিনা এই মুহুর্তে ইউক্রেনের হাতে রয়েছে বলে জানা নেই। মোটকথা, বিশ্লেষকেরা কেউই এই মুহুর্তে নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, এই ঘটনা কিভাবে ঘটানো হয়েছে। হয়তো প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। এই মুহুর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যুদ্ধের উপরে এই হামলার প্রভাব কতটুকু হতে পারে।
মাইকেল ক্লার্ক বলছেন যে, এই সেতু কিছুদিনের মাঝেই হয়তো মেরামত করা হয়ে যাবে। এর আগ পর্যন্ত দক্ষিণের খেরসনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রসদ মারিউপোল এবং বেরদিয়ানস্ক সমুদ্রবন্দর হয়ে সেখান থেকে রেলযোগে মেলিটোপোল হয়ে খেরসন পৌঁছাবে। এই রেললাইনের একাংশ ইউক্রেনের দূরপাল্লার আর্টিলারি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তখন খেরসনে ইউক্রেনের আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে। রুশরা সামরিক রসদ পরিবহণে সড়কের চাইতে রেলের উপরে বেশি নির্ভরশীল। তবে যেহেতু কার্চ সেতুর রেল অংশটা ধ্বসে পড়েনি; শুধু ক্ষতি হয়েছে কিছুটা, তাই ইউক্রেন খুব বেশি হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় পাবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর জন্যে।
মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস’ বা ‘সিএসআইএস’এর ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল মিক রায়ান এক টুইটার বার্তায় বলছেন যে, কার্চ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেলিটোপোল হয়ে স্থলভাগের উপর দিয়ে রেললাইনটা এখন বেশি ব্যবহৃত হবে। আর এর বাইরেও কার্চ প্রণালি পার হবার জন্যে ফেরিও রয়েছে। তবে এই ঘটনার ফলে মেলিটোপোল অধিকারে রাখাটা রুশদের জন্যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো। আর রুশরাও হয়তো একারণে দক্ষিণের দিকে তাদের সেনা মোতায়েন বাড়াতে পারে। এর ফলে যুদ্ধের অন্যান্য ফ্রন্টে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর জন্যে সুযোগ তৈরি হবে। মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’এর সিনিয়র ফেলো এবং প্রাক্তন মার্কিন ম্যারিন কোর সদস্য রব লী টুইটারে জেনারেল মিক রায়ানএর মতামত সমর্থন করে বলছেন যে, ক্রিমিয়াতে রসদ পৌঁছাতে মেলিটোপোলের রেল জংশনের গুরুত্ব বাড়ার সাথেসাথে মেলিটোপোলের ১’শ ২০ কিঃমিঃ উত্তরে অবস্থিত জাপোরিজজিয়া বরাবর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে; যদিও ইউক্রেনিয়রা হয়তো আরও আগেই এই পরিকল্পনা করে থাকতে পারে।
২৭শে জুলাই খেরসন এবং ৬ই সেপ্টেম্বর খারকিভের অপারেশন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যুদ্ধের গতিপথের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খেরসনে ইউক্রেনের অপারেশন শুরুর আগ থেকেই রুশরা পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য ফ্রন্ট থেকে সেনা সড়িয়ে খেরসনে মোতায়েন করে। এর ফলে ইউক্রেনিয়রা যখন খারকিভে অপারেশন শুরু করে, তখন কয়েক দিনের মাঝেই রুশরা কয়েক হাজার বর্গ কিঃমিঃ এলাকা ছেড়ে দিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এখন ইউক্রেনিয়রা আবারও খেরসন অভিমুখে অপারেশনের দিক পাল্টাবার ফলে রুশরাও সেদিকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। এমনই একটা সময়ে কার্চ সেতুর উপর হামলার ঘটনাটা ঘটলো। এতে রুশদের দীর্ঘমেয়াদে কোন ক্ষতি না হলেও রুশ গর্ব এতে যথেষ্টই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৫ই মে ভ্লাদিমির পুতিন নিজে ট্রাক চালিয়ে ১৭ কিঃমিঃ লম্বা রাশিয়ার দীর্ঘতম সেতুটা উদ্ভোধন করেছিলেন। সেতুর উপর আক্রমণে রুশদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা দেয়ার সক্ষমতা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কার্চ সেতুর উপর হামলা যা দিয়েই করা হোক না কেন, এটা ছিল একটা দুঃসাহসিক অপারেশন। আর ইউক্রেনিয়রা এই হামলার ফল কতটা ভোগ করতে পারবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দক্ষতার উপর। পশ্চিমা সরঞ্জামের উপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল হলেও ইউক্রেনের সেনাদেরকেই প্রমাণ করতে হচ্ছে যে, তারা রুশ সেনাদের চাইতে অধিকতর দক্ষ।
Saturday, 10 July 2021
কৃষ্ণ সাগরে ব্রিটেনের স্বার্থ কি?
১০ই জুলাই ২০২১
গত ২৩শে জুন ব্রিটিশ রয়াল নেভির একটা যুদ্ধজাহাজ কৃষ্ণ সাগরে রুশ সামরিক বাহিনীর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবার পর থেকে ব্রিটেন এবং রাশিয়ার মাঝে কাদাছোঁড়াছুড়ি চলছে। রুশ বার্তাসংস্থা ‘ইন্টারফ্যাক্স’ বলছে যে, ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘ডিফেন্ডার’ রাশিয়ার সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়লে রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করে সতর্ক করা হয় এবং একটা ‘সুখোই ২৪’ যুদ্ধবিমান থেকে কয়েকটা বোমা জাহাজটার কাছাকাছি ফেলা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলে যে, ব্রিটিশ জাহাজটা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অমান্য করেছে। রুশ বার্তাসংস্থা ‘তাস’ জানাচ্ছে যে, ঘটনার পর ব্রিটিশ সামরিক এটাশেকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। অপরদিকে টুইটারে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, ‘ডিফেন্ডার’কে লক্ষ্য করে কোন সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়নি। বরং জাহাজটা আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইউক্রেনের সমুদ্রসীমানা ‘নিরপরাধভাবে অতিক্রম’ করছিল। ‘রয়টার্স’ বলছে যে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদেরকে বলেন যে, রাশিয়ার এই দাবির ব্যাপারে তিনি অবাক হননি; কারণ রাশিয়ার সাথে এরকম ঘটনা নিয়মিত।
২৪শে জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন যে, ক্রিমিয়ার উপকূলে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের চলাচল পুরোপুরি সঠিক ছিল। সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে ব্রিটেন মস্কোকে চ্যালেঞ্জ করে যেতে থাকবে। তিনি বলেন যে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা ব্যবহার করাটা পুরোপুরি সঠিক ছিল; এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ব্রিটেন রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল করে নেয়ার স্বীকৃতি দেয়নি। মূলতঃ বরিস জনসনের কথাগুলি এই দ্বন্দ্বকে সংজ্ঞায়িত করে। ব্রিটেন ক্রিমিয়াকে এখনও ইউক্রেনের অংশ হিসেবে দেখছে এবং ক্রিমিয়ার সমুদ্রসীমানাকেও ব্রিটেন দেখছে ইউক্রেনের এলাকা হিসেবে; রাশিয়ার এলাকা হিসেবে নয়। অপরদিকে ব্রিটেন এবং রাশিয়া উভয়েই ক্রিমিয়ার মালিকানার সংজ্ঞার উপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখার কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজের সমুদ্রসীমা থেকে হাজার মাইল দূরে ব্রিটেন কৃষ্ণ সাগরে কি করছে?
‘ডিফেন্ডার’ ব্রিটিশ রয়াল নেভির দৈত্যাকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘কুইন এলিজাবেথ’এর সাথে ভূমধ্যসাগরে এসেছিল। সেই গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে ‘ডিফেন্ডার’ এবং ডাচ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘এভারস্টেন’ কৃষ্ণ সাগরে ঢোকে। ঘটনার দুই দিন আগে ২১শে জুন ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ‘ডিফেন্ডার’এর ডেকের উপর ইউক্রেনের সাথে একটা সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে যে, গত অক্টোবরে দুই দেশের মাঝে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি মোতাবেক ব্রিটেন ইউক্রেনের জন্যে ৮টা ছোট দ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে এবং ব্রিটিশ রয়াল নেভির পুরোনো দু’টা মাইন সুইপার জাহাজ ইউক্রেনকে দেবে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর জন্যে দু’টা নৌঘাঁটি তৈরিতেও সহায়তা দেবে ব্রিটেন। একইসাথে এই প্রকল্পের জন্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নও ব্রিটিশ সরকারই করছে। এছাড়াও ইউক্রেনের বর্তমান কিছু যুদ্ধবিমানকেও পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র বহণ করার জন্যে উপযোগী করার কথা উল্লেখ করা হয়। তদুপরি ইউক্রেনের নৌবাহিনীর জন্যে ফ্রিগেট তৈরির প্রকল্পেও সহায়তা দেবে ব্রিটেন।
মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’এর সিনিয়ন ফেলো ব্রায়ান হুইটমোর বলছেন যে, ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেবার পর থেকে এই এলাকায় উত্তেজনা চলছে; ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের সাথে রুশদের এই দ্বন্দ্ব সেই উত্তেজনারই অংশ। ক্রিমিয়ার আশেপাশে কৃষ্ণ সাগরে আন্তর্জাতিক আকাশসীমানায় মার্কিন এবং ব্রিটিশ সামরিক বিমান নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং রুশ যুদ্ধবিমান সেগুলিকে আকাশে বাধা দিচ্ছে। ‘ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশন’এর সিনিয়র ফেলো স্টিভেন পাইফার এই ঘটনাকে ‘চায়ের কাপে ঝড়’এর সাথে তুলনা দেন। তিনি বলছেন যে, রাশিয়া বলতে চাইছে যে, পশ্চিমারা রাশিয়ার সীমানায় আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে; আর রাশিয়া নিজ সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়া যেমন বলতে চাইছে যে, পশ্চিমা চাপের মুখে রাশিয়া নিজেকে রক্ষা করতে চাইছে; অপরপক্ষে রুশ সরকার নিজ জনগণের কাছ থেকেও সমর্থন চাইছে। তবে তিনি বলছেন যে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের শক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করে যেতে থাকবে এবং পশ্চিমারাও রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে যেতে থাকবে।
কৃষ্ণ সাগরে ব্রিটেনের স্বার্থ নতুন নয়। ১৮৭৮ সালে ইস্তাম্বুলের উপকন্ঠে রুশ সেনাবাহিনী হাজির হলে ব্রিটেনের বাধায় রাশিয়া পিছু হঠতে বাধ্য হয়। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বসফরাস প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেন রাশিয়ার হাতে ছাড়তে রাজি নয়; তাই বসফরাসের নিরাপত্তা কথা বলে ব্রিটেন সাইপ্রাসে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে; যা আজও রয়েছে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে উসমানি খিলাফতের অধীনে থাকা অঞ্চলগুলি ভাগবাটোয়ারা করার সময়েও বসফরাস প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যেন রাশিয়ার কাছে চলে না যায়, সেব্যাপারটা নিশ্চিত করে ব্রিটেন। ১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত লাউস্যান চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন বসফরাসের নিয়ন্ত্রণ দেয় লীগ অব নেশনসএর হাতে। তবে ১৯৩০এর দশকে ফ্যাসিস্ট ইতালি এবং নাজি জার্মানির আবির্ভাবের পর ১৯৩৬ সালে ‘মনট্রিউ কনভেনশন’এর মাধ্যমে নতুন করে বসফরাসের নিয়মগুলি ঠিক করা হয়; যেগুলি আজও বলবত রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের চাপে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইলে কৃষ্ণ সাগরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আগমণ ঘটে এবং চার দশক তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের উপরেই নির্ভরশীল থাকে। ঠান্ডা যুদ্ধ শেষে ২০০৪ সালে কৃষ্ণ সাগরের দেশ রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হলে কৃষ্ণ সাগরে পশ্চিমাদের সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা শুরু হয়। ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়া আক্রমণ করে। এরপর ২০১৪ সালে ইউক্রেনে বিপ্লবের মাধ্যমে রুশ সমর্থিত সরকারের পতনের পর পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয় এবং রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।
ব্রিটিশ রয়াল নেভির ডেস্ট্রয়ার ‘ডিফেন্ডার’ এবং ডাচ ফ্রিগেট ‘এভারস্টেন’ ব্রিটিশ বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘কুইন এলিজাবেথ’এর সাথে দূরপ্রাচ্যের মিশনে বের হয়েছে। জাহাজগুলির দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছানো এখনও অনেক দেরি; কিন্তু ইতোমধ্যেই তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে আসার মতো একটা খবর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে ন্যাটোর মিশনের সাথে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ নিয়মিতই মোতায়েন হচ্ছে; তবে মিডিয়ায় এসেছে মার্কিন কর্মকান্ড। এই ঘটনার মাধ্যমে ব্রিটেনের কৃষ্ণ সাগরের ব্রিটিশ মিশনকে হাইলাইট করা হলো। কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ছাড়াও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিতে চাইছে ব্রিটেন; প্রতিটা সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে তারা।
গত ২৩শে জুন ব্রিটিশ রয়াল নেভির একটা যুদ্ধজাহাজ কৃষ্ণ সাগরে রুশ সামরিক বাহিনীর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবার পর থেকে ব্রিটেন এবং রাশিয়ার মাঝে কাদাছোঁড়াছুড়ি চলছে। রুশ বার্তাসংস্থা ‘ইন্টারফ্যাক্স’ বলছে যে, ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘ডিফেন্ডার’ রাশিয়ার সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়লে রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করে সতর্ক করা হয় এবং একটা ‘সুখোই ২৪’ যুদ্ধবিমান থেকে কয়েকটা বোমা জাহাজটার কাছাকাছি ফেলা হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলে যে, ব্রিটিশ জাহাজটা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অমান্য করেছে। রুশ বার্তাসংস্থা ‘তাস’ জানাচ্ছে যে, ঘটনার পর ব্রিটিশ সামরিক এটাশেকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। অপরদিকে টুইটারে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয় যে, ‘ডিফেন্ডার’কে লক্ষ্য করে কোন সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করা হয়নি। বরং জাহাজটা আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইউক্রেনের সমুদ্রসীমানা ‘নিরপরাধভাবে অতিক্রম’ করছিল। ‘রয়টার্স’ বলছে যে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতাদেরকে বলেন যে, রাশিয়ার এই দাবির ব্যাপারে তিনি অবাক হননি; কারণ রাশিয়ার সাথে এরকম ঘটনা নিয়মিত।
২৪শে জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন যে, ক্রিমিয়ার উপকূলে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের চলাচল পুরোপুরি সঠিক ছিল। সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে ব্রিটেন মস্কোকে চ্যালেঞ্জ করে যেতে থাকবে। তিনি বলেন যে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা ব্যবহার করাটা পুরোপুরি সঠিক ছিল; এবং এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ব্রিটেন রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল করে নেয়ার স্বীকৃতি দেয়নি। মূলতঃ বরিস জনসনের কথাগুলি এই দ্বন্দ্বকে সংজ্ঞায়িত করে। ব্রিটেন ক্রিমিয়াকে এখনও ইউক্রেনের অংশ হিসেবে দেখছে এবং ক্রিমিয়ার সমুদ্রসীমানাকেও ব্রিটেন দেখছে ইউক্রেনের এলাকা হিসেবে; রাশিয়ার এলাকা হিসেবে নয়। অপরদিকে ব্রিটেন এবং রাশিয়া উভয়েই ক্রিমিয়ার মালিকানার সংজ্ঞার উপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখার কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজের সমুদ্রসীমা থেকে হাজার মাইল দূরে ব্রিটেন কৃষ্ণ সাগরে কি করছে?
‘ডিফেন্ডার’ ব্রিটিশ রয়াল নেভির দৈত্যাকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘কুইন এলিজাবেথ’এর সাথে ভূমধ্যসাগরে এসেছিল। সেই গ্রুপ থেকে আলাদা হয়ে ‘ডিফেন্ডার’ এবং ডাচ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘এভারস্টেন’ কৃষ্ণ সাগরে ঢোকে। ঘটনার দুই দিন আগে ২১শে জুন ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে ‘ডিফেন্ডার’এর ডেকের উপর ইউক্রেনের সাথে একটা সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে যে, গত অক্টোবরে দুই দেশের মাঝে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি মোতাবেক ব্রিটেন ইউক্রেনের জন্যে ৮টা ছোট দ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে এবং ব্রিটিশ রয়াল নেভির পুরোনো দু’টা মাইন সুইপার জাহাজ ইউক্রেনকে দেবে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর জন্যে দু’টা নৌঘাঁটি তৈরিতেও সহায়তা দেবে ব্রিটেন। একইসাথে এই প্রকল্পের জন্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নও ব্রিটিশ সরকারই করছে। এছাড়াও ইউক্রেনের বর্তমান কিছু যুদ্ধবিমানকেও পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র বহণ করার জন্যে উপযোগী করার কথা উল্লেখ করা হয়। তদুপরি ইউক্রেনের নৌবাহিনীর জন্যে ফ্রিগেট তৈরির প্রকল্পেও সহায়তা দেবে ব্রিটেন।
![]() |
| কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ছাড়াও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিতে চাইছে ব্রিটেন; প্রতিটা সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে তারা। |
মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’এর সিনিয়ন ফেলো ব্রায়ান হুইটমোর বলছেন যে, ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেবার পর থেকে এই এলাকায় উত্তেজনা চলছে; ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের সাথে রুশদের এই দ্বন্দ্ব সেই উত্তেজনারই অংশ। ক্রিমিয়ার আশেপাশে কৃষ্ণ সাগরে আন্তর্জাতিক আকাশসীমানায় মার্কিন এবং ব্রিটিশ সামরিক বিমান নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং রুশ যুদ্ধবিমান সেগুলিকে আকাশে বাধা দিচ্ছে। ‘ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশন’এর সিনিয়র ফেলো স্টিভেন পাইফার এই ঘটনাকে ‘চায়ের কাপে ঝড়’এর সাথে তুলনা দেন। তিনি বলছেন যে, রাশিয়া বলতে চাইছে যে, পশ্চিমারা রাশিয়ার সীমানায় আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে; আর রাশিয়া নিজ সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়া যেমন বলতে চাইছে যে, পশ্চিমা চাপের মুখে রাশিয়া নিজেকে রক্ষা করতে চাইছে; অপরপক্ষে রুশ সরকার নিজ জনগণের কাছ থেকেও সমর্থন চাইছে। তবে তিনি বলছেন যে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরের শক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করে যেতে থাকবে এবং পশ্চিমারাও রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে যেতে থাকবে।
কৃষ্ণ সাগরে ব্রিটেনের স্বার্থ নতুন নয়। ১৮৭৮ সালে ইস্তাম্বুলের উপকন্ঠে রুশ সেনাবাহিনী হাজির হলে ব্রিটেনের বাধায় রাশিয়া পিছু হঠতে বাধ্য হয়। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বসফরাস প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেন রাশিয়ার হাতে ছাড়তে রাজি নয়; তাই বসফরাসের নিরাপত্তা কথা বলে ব্রিটেন সাইপ্রাসে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে; যা আজও রয়েছে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে উসমানি খিলাফতের অধীনে থাকা অঞ্চলগুলি ভাগবাটোয়ারা করার সময়েও বসফরাস প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যেন রাশিয়ার কাছে চলে না যায়, সেব্যাপারটা নিশ্চিত করে ব্রিটেন। ১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত লাউস্যান চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন বসফরাসের নিয়ন্ত্রণ দেয় লীগ অব নেশনসএর হাতে। তবে ১৯৩০এর দশকে ফ্যাসিস্ট ইতালি এবং নাজি জার্মানির আবির্ভাবের পর ১৯৩৬ সালে ‘মনট্রিউ কনভেনশন’এর মাধ্যমে নতুন করে বসফরাসের নিয়মগুলি ঠিক করা হয়; যেগুলি আজও বলবত রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের চাপে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইলে কৃষ্ণ সাগরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আগমণ ঘটে এবং চার দশক তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের উপরেই নির্ভরশীল থাকে। ঠান্ডা যুদ্ধ শেষে ২০০৪ সালে কৃষ্ণ সাগরের দেশ রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হলে কৃষ্ণ সাগরে পশ্চিমাদের সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা শুরু হয়। ২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়া আক্রমণ করে। এরপর ২০১৪ সালে ইউক্রেনে বিপ্লবের মাধ্যমে রুশ সমর্থিত সরকারের পতনের পর পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয় এবং রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।
ব্রিটিশ রয়াল নেভির ডেস্ট্রয়ার ‘ডিফেন্ডার’ এবং ডাচ ফ্রিগেট ‘এভারস্টেন’ ব্রিটিশ বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘কুইন এলিজাবেথ’এর সাথে দূরপ্রাচ্যের মিশনে বের হয়েছে। জাহাজগুলির দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছানো এখনও অনেক দেরি; কিন্তু ইতোমধ্যেই তারা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে আসার মতো একটা খবর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। কৃষ্ণ সাগরে ন্যাটোর মিশনের সাথে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ নিয়মিতই মোতায়েন হচ্ছে; তবে মিডিয়ায় এসেছে মার্কিন কর্মকান্ড। এই ঘটনার মাধ্যমে ব্রিটেনের কৃষ্ণ সাগরের ব্রিটিশ মিশনকে হাইলাইট করা হলো। কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ছাড়াও পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইনকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব নিতে চাইছে ব্রিটেন; প্রতিটা সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে তারা।
Labels:
Black Sea,
Crimea,
Geopolitics,
Global Britain,
New World Order,
Russia,
Turkey,
Ukraine,
USA
Subscribe to:
Posts (Atom)





