Showing posts with label Al-Aqsa. Show all posts
Showing posts with label Al-Aqsa. Show all posts

Friday, 22 April 2022

আল-আকসার সহিংসতা মুসলিমদের নেতৃত্বের শূণ্যতাকেই তুলে ধরে

২৩শে এপ্রিল ২০২২

 
২০১৪ সাল থেকে শুরু করে নবম বারের মতো ইস্রাইলি সেনারা আল-আকসা মসজিদে হামলা করলো। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে, ২০২১এর মে মাসে ১১ দিনের ইস্রাইলি হামলায় যেমন আড়াই’শ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল, তেমনই কোন সহিংসতার দিকে পরিস্থিতি ধাবিত হচ্ছে কিনা।


২২শে এপ্রিল ইস্রাইলি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদে ইস্রাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ৩ জন সাংবাদিকসহ বেশ ক’জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট বলছে যে, ৩১ জন আহতের মাঝে ১৪ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে ‘আল জাজিরা’ বলছে যে, শুক্রবার ভোরে ইস্রাইলি বাহিনী আল আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডে ঢুকে রাবার বুলেট এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে। জবাবে ফিলিস্তিনি তরুণরা ইস্রাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেন নিক্ষেপ করে। ইস্রাইলি নিরাপত্তা বাহিনী বলছে যে, তারা ফজরের নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত মসজিদ কম্পাউন্ডে ঢোকেনি; এবং তারা ইটপাটকেল ছোঁড়ার জবাব দিতেই সেখানে ঢুকেছিল। কিন্তু এই সংঘর্ষ হঠাত ঘটেনি। প্রায় মাসখানেক ধরেই সহিংসতায় বহু ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে। ২১শে এপ্রিলও ভোরে ফজরের নামাজে পরপরই ইস্রাইলি বাহিনী রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস এবং পিপার স্প্রে ছুঁড়ে কমপক্ষে ৩০ জন মুসল্লীকে আহত করে। জবাবে ফিলিস্তিনি তরুণরা পেট্রোল বোমা এবং পাটকেল নিক্ষেপ করে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে নবম বারের মতো ইস্রাইলি সেনারা আল-আকসা মসজিদে হামলা করলো। মার্চে মাসেই জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে ইস্রাইলি হামলায় ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়; বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় ১৪ জন ইস্রাইলিও নিহত হয়। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে, ২০২১এর মে মাসে ১১ দিনের ইস্রাইলি হামলায় যেমন আড়াই’শ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল, তেমনই কোন সহিংসতার দিকে পরিস্থিতি ধাবিত হচ্ছে কিনা।

‘আল জাজিরা’ বলছে যে, রমজান মাসে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মাঝে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা আল আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডের ভিতরে ‘আল কিবলি’ মসজিদে ঢুকে পড়লে ফিলিস্তিনিরা তাদেরকে লক্ষ্য করে পাটকেল নিক্ষেপ করে। উগ্র ইহুদিরা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দাবি পরিবর্তন করে ফেলেছে। এখন তারা তাদের ‘পাসওভার’ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্যে মসজিদে ঢুকে উপাসনা করতে চাইছে। ১৯৬৭ সালে জর্দানের সাথে ইস্রাইলের সমঝোতা অনুযায়ী আল আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডের ভেতরে কোন অমুসলিম উপাসনা করতে পারবে না। ১৫ই এপ্রিল ‘পাসওভার’এর প্রথম দিনে ইস্রাইলি বাহিনী মসজিদ কম্পাউন্ডে ঢুকে ১’শ ৫৮ ফিলিস্তিনিকে আহত করে এবং ৪’শ জনকে গ্রেপ্তার করে।

২০শে এপ্রিল সন্ধ্যার সময় হাজারখানেক উগ্রপন্থী ইহুদি ‘আরবদের মৃত্যু চাই’ শ্লোগান দিতে দিতে মিছিল করে দামাস্কাস গেইট এবং পুরোনো জেরুজালেমের মুসলিমদের বসতির দিকে ধাবিত হলে ইস্রাইলি পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। ইস্রাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন যে, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তিনি পুলিশকে বাধা দিতে বলেছেন। তিনি ইস্রাইলি পুলিশের কাজকে আরও কঠিন করতে বা তাদেরকে নিরাপত্তাহীনতার মাঝে ফেলতে চান না। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া উগ্রবাদী পার্লামেন্ট সদস্য বেন গাভির বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’কে বলেন যে, তিনি কোন অবস্থাতেই তার লক্ষ্য থেকে সড়বেন না। তিনি প্রশ্ন করেন যে, কোন আইনে তাকে দামাস্কাস গেইট যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে? তার কথায়, “কিছু ইহুদি কখনোই হামাসের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না”।

একই সময়ে ২১শে এপ্রিল এক সপ্তাহে দ্বিতীয় দিনের মতো ইস্রাইলি যুদ্ধবিমান গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ করেছে। ইস্রাইলিরা বলছে যে, তাদের টার্গেট ছিল মাটির নিচে রকেট ইঞ্জিন তৈরি করার কারখানা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে যে, হামলায় মধ্য গাজার আল-বুরাইজ শরণার্থী ক্যাম্পে কয়েকটা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 
আরব দেশগুলি এবং তুরস্ক যখন ইস্রাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিযোগিতা করছে, তখন ফিলিস্তিনিদের উপর দখলদার ইস্রাইলি বাহিনী এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী ইহুদিদের হামলা বন্ধ করার কে রয়েছে? ফিলিস্তিনিরা যখন বছরের পর বছর এতিম শিশুর মতো যখন মার খাচ্ছে, তখন তা কেবল বৈশ্বিকভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বশূণ্যতাকেই তুলে ধরে। আল-আকসায় নতুন করে সহিংসতা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদেরকে নেতৃত্ব খোঁজায় মরিয়া করে তুলবে, যার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

‘মিডলইস্ট মনিটর’এর এক লেখায় মার্কিন বামপন্থী রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে সহযোগী আব্দেররাহমানি আমর বলছেন যে, ইউক্রেন এবং ফিলিস্তিনের ব্যাপারে পশ্চিমারা বীভৎস দ্বিমুখী নীতি প্রদর্শন করছে। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলিতে যেমন রুশ পণ্য বয়কটকে বিরাট একটা ইস্যু করা হয়েছে, ঠিক তার উল্টোটা করা হয়েছে যখন ফিলিস্তিনে অবৈধ ইস্রাইলি দখলদারিত্ব এবং গাজার উপর সামরিক হামলা বন্ধে যখন ইস্রাইলি পণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছিল। সেই আবদনে ইস্রাইলকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছিল; ঠিক সেই কথাটাই এখন রুশ পণ্য বয়কটের ক্ষেত্রে ইইউ, ন্যাটো এবং বেশিরভাগ পশ্চিমা লিবারাল সংস্কৃতির দেশ জোর গলায় বলছে। এপ্রিল মাসেই মার্কিন কংগ্রেসম্যান লী জেলডিন ও ৪৬ জন কংগ্রেস সদস্য ‘ইস্রাইল এন্টি বয়কট এক্ট’ নামের একটা আইন নিয়ে এসেছে; যা নিশ্চিত করবে যে, কেউ যেন কখনোই ইস্রাইলকে বা ইস্রাইলি পণ্যকে বয়কট করার প্রস্তাব নিয়ে আসতে না পারে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ইস্রাইলের পক্ষে সমর্থন কতটা শক্ত, তার প্রমাণ হলো ২৭টা মার্কিন অঙ্গরাজ্যে আইন করা হয়েছে যাতে করে কেউই ইস্রাইলের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিতে না পারে। এই আইনগুলি অনেক ক্ষেত্রেই সেসব ব্যবসাকে টার্গেট করেছে, যারা ইস্রাইলের বসতি স্থাপনের ব্যবসায়িক পার্টনার হতে চায়না। আমর বলছেন যে, পশ্চিমারা একদিকে যেমন রাশিয়াকে শত্রু এবং ইস্রাইলকে বন্ধু মনে করছে, তেমনি ইউক্রেনিয়ানদেরকে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপিয় হবার কারণে এবং ফিলিস্তিনিদেরকে শ্বেতাঙ্গ না হওয়ায় ও তৃতীয় বিশ্বের আরব জাতির অংশ হওয়ায় আলাদা করে দেখেছে। এছাড়াও মার্কিন সরকার তাদের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের অন্য দেশের অঞ্চল দখল করাকে খারাপ চোখে দেখেছে; কিন্তু মার্কিনীদের বন্ধু দেশ হলে তারা তাদের লিবারাল আদর্শকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।

‘ডেইলি সাবাহ’ বলছে যে, ১৯শে এপ্রিল তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়িপ এরদোগান ইস্রাইলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগকে ফোন করে বলেন যে, সহিংসতায় ৪’শ ফিলিস্তিনি আহত হওয়ায় তিনি ব্যাথিত হয়েছে; এবং তিনি ইস্রাইলকে সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। এরদোগানের কথাগুলি বলে দিচ্ছে যে, আরব দেশগুলি এবং তুরস্ক যখন ইস্রাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিযোগিতা করছে, তখন ফিলিস্তিনিদের উপর দখলদার ইস্রাইলি বাহিনী এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী ইহুদিদের হামলা বন্ধ করার কে রয়েছে? ফিলিস্তিনিরা যখন বছরের পর বছর এতিম শিশুর মতো যখন মার খাচ্ছে, তখন তা কেবল বৈশ্বিকভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বশূণ্যতাকেই তুলে ধরে। আল-আকসায় নতুন করে সহিংসতা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদেরকে নেতৃত্ব খোঁজায় মরিয়া করে তুলবে, যার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। অপরদিকে, যদিও পশ্চিমাদের দ্বিমুখী ও বর্ণবৈষম্যমূলক নীতি প্রকৃতপক্ষে নতুন কিছু নয়, তথাপি তা বর্তমান ভেঙ্গে পড়া বিশ্বব্যবস্থার অসারতা প্রমাণে যথেষ্ট।

Friday, 8 October 2021

ফিলিস্তিনের উপর ইস্রাইলের চাপ বৃদ্ধি নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে

০৯ই অক্টোবর ২০২১

আল আকসা মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্যে জর্দান ইস্রাইকে আহ্বান করেছে; তুরস্ক এবং মিশর থেকে নিন্দা এসেছে ইস্রাইলি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে। ঠিক এই ব্যাপারটাই চলেছে গত মে মাসে গাজা যুদ্ধের সময়েও। এহেন পরিস্থিতি ফিলিস্তিনে নতুন করে সংঘাতের আশংকাকে যেমন বাড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনি ফিলিস্তিনের ব্যাপারে মুসলিম নেতৃত্বের উদাসীনতা পুরো মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সংকটকে সামনে নিয়ে আসছে; যা কিনা মুসলিমদের মাঝে প্রকৃত পরিবর্তনের হাহাকারকে আরও প্রকট করে তুলছে।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৮তম অধিবেশনে এক যৌথ বিবৃতিতে ‘ইউরো মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর’ এবং ‘গ্লোবাল ইন্সটিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট এন্ড হেলথ’ বলে যে, গাজার উপর ইস্রাইলের দীর্ঘ সময়ের অবরোধের কারণে এবং কিছুদিন পরপরই সেখানে ইস্রাইলি সামরিক হামলার কারণে গাজার ৯৭ শতাংশ পানি পানের অযোগ্য হয়ে গেছে। কিন্তু গাজার মানুষ অবরোধের কারণে বাধ্য হচ্ছে এই পানি পান করতে; যা কিনা তাদের উপর ধীরে ধীরে বিষপ্রয়োগের কাজ করছে। বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যাহত হবার কারণে গাজার ৮০ শতাংশ ময়লা পানি সরাসরি সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে; আর বাকি ২০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশে যাচ্ছে। গত মে মাসে গাজার উপর ইস্রাইলি হামলার সময় গাজার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর ইস্রাইলিরা টার্গেট করে বোমাবর্ষণ করে। এর ফলশ্রুতিতে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, গাজার মানুষের মোট অসুস্থ্যতার মাঝে চার ভাগের এক ভাগই ছিল পানি দূষণজনিত রোগ। শিশুমৃত্যুর ১২ শতাংশই ছিল পেটের সমস্যার কারণে; যার মূল উৎসই হলো অপরিষ্কার পানি। সেখানকার মানুষ প্রতিদিন তাদের সন্তানদের ধীরে ধীরে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখছে; হয়তো যে মাটিতে তারা ফসল ফলায়, সেখানেও এর প্রভাব পড়বে। বিবৃতির উপসংহারে বলা হয় যে, গাজার জনগণকে বাঁচাতে ইস্রাইলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু ফিলিস্তিনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই বিবৃতির উপসংহারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা প্রশ্ন করা যায়। গত মে মাসে গাজার উপর ইস্রাইলি হামলায় শতশত মানুষ নিহত হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলি ইস্রাইলের পক্ষেই কথা বলে যায়। তারা বলে যে, ইস্রাইল যা কিছু করেছে, তা তার নিজেকে রক্ষা করার জন্যেই করেছে।

ফিলিস্তিনে ইস্রাইলের আগ্রাসী আচরণের একটা ধর্মীয় দিক ছিল সবসময়ই। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহ ধরে ইস্রাইলিদের ‘সুককত’ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় হাজারো অবৈধ ইহুদী বসতি স্থাপনকারীরা জেরুজালেমে পবিত্র আল আকসা মসজিদে প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে দু’বার করে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ইস্রাইলি পতাকা উত্তোলন করে। ইস্রাইলের ‘চ্যানেল ৭’ বলে যে, মোট ৩ হাজার ৫’শ ৯৭ জন ইহুদী বসতি স্থাপনকারী এই মসজিদে ঢুকে। হামলাকারী ইহুদিদের মাঝে অনেক সময়েই পুলিশ প্রহড়ায় মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন। ‘মিডলইস্ট আই’ বলছে যে, ২৮শে সেপ্টেম্বরও ১’শ ৫১ জন ইহুদী আল আকসা মসজিদে ঢুকে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করে। ইহুদিদের মূল টার্গেট হলো মসজিদ কম্পাউন্ডের মাঝে ‘ডোম অব দ্যা রক’ যা ৬৯২ সালে খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান নির্মাণ করেছিলেন। ইহুদিরা সেই স্থানে উপাসনা করে। ‘ওয়াফা’ বলছে যে, ইহুদীরা যখন আল আকসার ভিতর ঢুকে, তখন ইস্রাইলি পুলিশ ফিলিস্তিনিদের মসজিদে ঢুকতে বাধা দেয়। ফিলিস্তিনিরা কয়েকটা বাসে করে ২৮শে সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের আগেই সেখানে পৌঁছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নামাজের পর মসজিদে অবস্থান ধর্মঘট করা, যাতে ইহুদিরা সেখানে ঢুকে পবিত্রতা নষ্ট করতে না পারে। কিন্তু ইস্রাইলিরা সেই বাসগুলিকে আটকে দেয় এবং দু’জন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। সেপ্টেম্বর মাসেই ইহুদিরা তাদের তিন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যায় আল আকসা মসজিদে হামলা করে।

ফিলিস্তিনিদের উপর ইস্রাইলের চাপ সৃষ্টির পদ্ধতি অনেক রকম। ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উপর ইস্রাইলী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আগের দুই বছরের চাইতে দ্বিগুণ হয়েছে বলে বলছে ইস্রাইলি পত্রিকা ‘হারেতস’। পত্রিকাটা বলছে যে, গত ডিসেম্বর মাসে সহিংসতায় দু’জন ইস্রাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী নিহত হবার পর থেকে ইস্রাইলি কর্তৃপক্ষ নতুন এক কৌশল নিয়েছে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদেরকে ফিলিস্তিনিদের উপর নিজেদের ‘ক্রোধ প্রকাশ করার’ জন্যে পরিস্থিতি সহজ করে দিচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে যেখানে ২০১৯ সালে ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদী বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা ছিল ৩’শ ৬৩; এবং ২০২০ সালে যা ছিল ৫’শ ৭; তা এখন ২০২১ সালে মাত্র ছয় মাসেই গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪’শ ১৬তে। এর মাঝে ১’শ ৩৯টা ঘটনা ছিল ‘প্রাইস ট্যাগ’ ঘটনা; ইস্রাইলিদের কাছে যার সংজ্ঞা হলো, ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতে আক্রমণ, পাথর ছুঁড়ে মারা, বর্ণবাদী গ্রাফিতি এঁকে যাওয়া, গাড়ির টায়ার নষ্ট করা এবং গাছ উপড়ে ফেলা। এই হামলাগুলির বেশিরভাগই করেছে ‘প্রাইস ট্যাগ’ এবং ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামের ইহুদী বসতি স্থাপনকারী গ্রুপ। ২০২১ সালের এই হামলাগুলিতে কমপক্ষে ২৩ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে; যা আগের বছরগুলির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বেশিরভাগ হামলাই হয়েছে হেবরন, রামাল্লাহ ও নাবলুস শহর এবং এর আশেপাশে। এছাড়াও পূর্ব জেরুজালেমে বাস করা ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়িতেও বিগত বছরগুলিতে বহু হামলা হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইহুদীরা পূর্ব জেরুজালেমের শুয়াফাত এলাকায় ফিলিস্তিনিদের অনেক বাড়িঘর এবং গাড়ির উপর হামলা করে। এর পরের মাসে শারাফাত এলাকায় একটা মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। ২০২০এর ফেব্রুয়ারিতে জিশ শহরের এক মসজিদে বর্ণবাদী কথা লিখে দেয়া হয়। এই ঘটনাগুলিতে বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনির মৃত্যুও হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের উপর ইস্রাইলের চাপ সৃষ্টি এবং তাদের জানমাল ধ্বংস করার ইস্রাইলি কর্মকান্ড নতুন নয়; তবে পদ্ধতিগুলি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ধর্মীয়ভাবে ইস্রাইলিরা সর্বদাই ফিলিস্তিনিদের চাপের মাঝে রেখেছে। যেমন কিছুদিন আগেই ইস্রাইলি এক আদালত আল আকসা মসজিদে ইহুদিদের ‘চুপচাপ’ উপাসনা বৈধ করে দেয়। ব্যাপারটা এমন যে, নিয়মিত আল আকসায় হাজারো ইহুদির হামলা কোন ঘটনাই ছিল না। এই কর্মকান্ডগুলির বিপরীতে মুসলিম দেশগুলির নেতৃত্ব থেকে আসছে বিভিন্ন বিবৃতি এবং নিন্দা। আল আকসা মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্যে জর্দান ইস্রাইকে আহ্বান করেছে; তুরস্ক এবং মিশর থেকে নিন্দা এসেছে ইস্রাইলি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে। ঠিক এই ব্যাপারটাই চলেছে গত মে মাসে গাজা যুদ্ধের সময়েও। ইস্রাইলের সাথে সৌদি গ্রুপ এবং তুর্কিদের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ইস্রাইলকে আরও বেপরোয়া করেছে। এহেন পরিস্থিতি ফিলিস্তিনে নতুন করে সংঘাতের আশংকাকে যেমন বাড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনি ফিলিস্তিনের ব্যাপারে মুসলিম নেতৃত্বের উদাসীনতা পুরো মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সংকটকে সামনে নিয়ে আসছে; যা কিনা মুসলিমদের মাঝে প্রকৃত পরিবর্তনের হাহাকারকে আরও প্রকট করে তুলছে।

Tuesday, 11 May 2021

ফিলিস্তিনে নতুন করে সহিংসতার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব

১১ই মে ২০২১
ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলির নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা এবং ইস্রাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বহীনতার অভাবকে প্রকটভাবে সামনে নিয়ে এসেছে; যা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদেরকে বড় কোন পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হতে অনুপ্রাণিত করবে। ইস্রাইলের সাথে ফিলিস্তিনীদের সংঘাত যত মারাত্মক আকার ধারণ করতে থাকবে, মুসলিম বিশ্বেও পরিবর্তনের আকাংক্ষা ততটাই প্রবল হতে থাকবে।



রমজান মাসে ফিলিস্তিনে উত্তেজনা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ই এবং ১০ই মে গাজা উপত্যকায় ইস্রাইলী বিমান হামলায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছে বলে বলছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কেদ্রা। নিহতদের মাঝে ৯জন শিশুও রয়েছে। এছাড়াও ১’শ ৬ জন আহত হয়েছে; যার মাঝে কিছু লোকের অবস্থা গুরুতর। বিমান হামলার প্রতিবাদে গাজার সরকারে থাকা হামাস ১৩ কিঃমিঃ দূরে আশকেলন এলাকায় রয়েট হামলা করে। ইস্রাইলী সরকার ঘোষণা দেয় যে, ফিলিস্তিনী গ্রুপগুলি ইস্রাইলের উপর রকেট হামলা করার পর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা গাজায় বিমান হামলা শুরু করেছে। এর আগে ফিলিস্তিনীরা রকেট হামলা করেছিল আল আকসা মসজিদে ইস্রাইলী পুলিশের হামলার পর। গাজায় বিমান হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে সংঘাত আরও ঘনীভূত হলো।

রমজান মাসের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনে উত্তেজনা শুরু হয়। মুসল্লীরা জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে রাতের বেলায় তারাবির নামাজ আদায়ের জন্যে আসতে থাকলে ইস্রাইলী পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পূর্ব জেরুজালেমের দামাস্কাস গেট এলাকায় ইস্রাইলী পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা প্রদান করতে থাকলে সেখানে নিয়মিত সংঘর্ষ চলে। এর সাথে সাথে ফিলিস্তিনী এলাকায় উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদী ‘জায়নিস্ট’দের এক মিছিল শুরু হয়; যাকে কেন্দ্র করে আরও সংঘর্ষ চলে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম ইস্রাইলের দখলে আসার বার্ষিকীতে ‘জেরুজালেম দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে ‘জায়নিস্ট’রা এই মিছিলের আয়োজন করে। ৭ই মে রজমান মাসের শেষ জুমআর নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লীদের উপর ইস্রাইলীরা বাধা দেয়। পরদিন ৮ই মে হাজার হাজার মুসল্লী আল আকসা মসজিদে লাইলাতুল কদরের রাতে নামাজ পড়তে আসলে ইস্রাইলী হামলা শুরু হয়। ফিলিস্তিনী হাসপাতালের বরাত দিয়ে ‘বিবিসি’ জানায় যে, দামাস্কাস গেট এলাকায় প্রতিবাদকারীদের সাথে ইস্রাইলী বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় শ’খানেক ফিলিস্তনী আহত হয়। এর আগের রাতেও ইস্রাইলী পুলিশের হামলায় প্রায় ২’শ ফিলিস্তিনী আহত হয়। ফিলিস্তিনী রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে ‘আল জাজিরা’ জানায় যে, শুক্রবারের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি চোখ হারিয়েছে এবং দুইজন মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বেশিরভাগ মানুষই ইস্রাইলী রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মুখমন্ডল এবং চোখে আঘাত পেয়েছে।

এছাড়াও প্রায় মাসখানেক ধরেই ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় দখলকৃত জমিতে ইহুদীদের অবৈধ বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনীদের নিজেদের বাড়িঘর থেকে উৎখাত করা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সেই এলাকার চারটা পরিবার উতখাতের শিকার হয়ে অনেক বছর আগে ইস্রাইলের আদালতের সরণাপন্ন হয়েছিল। এই পরিবারগুলি ১৯৪৮ সালে ইস্রাইলী দখরদারিত্বের কারণে বাড়িঘর হারিয়ে ১৯৫৬ সালে শেখ জাররাহ এলাকায় বসতি স্থাপন করে। এই এলাকার তৎকালীন নিয়ন্ত্রক জর্দান এবং জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংতস্থা এই ব্যবস্থা করে দেয়। ইহুদী বসতি স্থাপনকারীরা আদালতে বলে যে, এই এলাকা প্রথম থেকেই ইহুদীদের জমি ছিল। সাম্প্রতিককালে ইস্রাইলের জেলা আদালত বলে যে, ফিলিস্তিনী পরিবারগুলিকে হয় এই এলাকা ছাড়তে হবে, নতুবা ইহুদীদেরকে জমির মালিক মেনে নিয়ে তাদেরকে ভাড়া প্রদান করবে। এই রায়কে কেন্দ্র করেই চলা উত্তেজনার সাথে যুক্ত হয়েছে আল আকসায় নামাজ আদায় করার সময়কার উত্তেজনা। ‘আল জাজিরা’র সাথে কথা বলতে গিয়ে ফিলিস্তিনী প্রতিবাদকারীরা বলছেন যে, আজকে শেখ জাররাহ থেকে মানুষকে উৎখাত করছে; কালকে অন্য এলাকা থেকেও ফিলিস্তিনীদের উৎখাত করবে। একারণেই তারা প্রতিবাদ করছেন। ৭ই মে ইস্রাইলী পুলিশ শেখ জাররাহ এলাকায় শতশত প্রতিবাদকারীর যাবার পথে বাধা সৃষ্টি করে। প্রতিবাদকারীরা ব্যারিকেডের বাইরেই ইফতার করে এবং অবস্থান ধর্মঘট করে। তবে এই প্রতিবাদ প্রতিদিন শান্তিপূর্ণ ছিল না। ৬ই মে পুলিশ অবস্থান ধর্মঘট পালনকারীদের উপর জলকামান, স্টান গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে ৩০ জন আহত হওয়া ছাড়াও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শেখ জাররাহ এলাকার বাসিন্দারা মোবাইলে ছবি তুলে সোশাল মিডিয়াতে দিচ্ছে; যেখানে দেখা যাচ্ছে যে ইহুদী দখলদারিরা অস্ত্রসহ টহল দিচ্ছে। সোশাল মিডিয়ার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, ইফতার করার সময় ফিলিস্তিনীদের উপর ইস্রাইলীরা হামলা করছে। ১০ই মে ইস্রাইলের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেবার কথা থাকলেও তা আদালত এক মাসের জন্যে পিছিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে সংঘাতের কারণটা রয়েই যাচ্ছে।

আল আকসা মসজিদে দুই দিনের ইস্রাইলী পুলিশী হামলার পর ইস্রাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা দেন যে, ইস্রাইল কোন ‘উগ্রবাদী’ গ্রুপকে শান্তি নষ্ট করতে দেবে না। ‘জেরুজালেম দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে নেতানিয়াহু এই ভাষণ দিচ্ছিলেন। অধিকৃত এলাকায় ইহুদী বসতি স্থাপনের চেষ্টার বিরুদ্ধে যেকোন চাপ প্রয়োগকে প্রতিহত করার কথা বলেন তিনি। ইস্রাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় যে, পূর্ব জেরুজালেমে জমি নিয়ে কিছু লোকের ব্যক্তিগত কলহকে ফিলিস্তিনিরা জাতীয় ইস্যু হিসেবে তৈরি করে জেরুজালেমে সহিংসতা তৈরি করছে।

৮ই মে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জর্দান, মিশর, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, পাকিস্তান, কাতার, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই ঘটনায় ইস্রাইলের নিন্দা করেছে। ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘটনার নিন্দা করে জাতিসংঘের জরুরি অধিবেশন দাবি করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল সাংবাদিকদের বলেন যে, শেখ জাররাহ এলাকায় ইস্রাইলের জোরপূর্বক উৎখাত অভিযান বন্ধ করতে আহ্ববান জানাচ্ছে জাতিসংঘ।

ইস্রাইলকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি সমর্থন চলছে ইস্রাইলের জন্মলগ্ন থেকেই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন সময়ে ইস্রাইলের সাথে শান্তি চুক্তি করেছে; যাদের মাঝে রয়েছে মিশর ও জর্দান। তুরস্ক প্রথম থেকেই ইস্রাইলের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখে চলেছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে এর সাথে যুক্ত হয়েছে সৌদি গ্রুপের অন্তর্গত সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মরক্কোর সাথে ইস্রাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি আরবদের সাথে ইস্রাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ব্যাপারটাতে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন সরকারের নির্বাচন জয়ের ব্যাপারটা নিশ্চিত হবার সাথেসাথেই আরব দেশগুলি এবং ইস্রাইল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে। তাদের কাছে ইস্যু হলো বাইডেন সরকারের সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা। আরব দেশগুলির সাথে ইস্রাইলের সম্পর্ক উন্নয়নের ফলাফলস্বরূপ ফিলিস্তিনে, বিশেষ করে অধিকৃত এলাকায় ইস্রাইলী আগ্রাসন যে বাড়বে, তা মোটামুটি জানাই ছিল। ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলির নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা এবং ইস্রাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বহীনতার অভাবকে প্রকটভাবে সামনে নিয়ে এসেছে; যা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদেরকে বড় কোন পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হতে অনুপ্রাণিত করবে। ইস্রাইলের সাথে ফিলিস্তিনীদের সংঘাত যত মারাত্মক আকার ধারণ করতে থাকবে, মুসলিম বিশ্বেও পরিবর্তনের আকাংক্ষা ততটাই প্রবল হতে থাকবে।